ঝালকাঠিতে হত্যা মামলার আসামিকে কুপিয়ে হত্যা

ঝালকাঠির রাজাপুরেরে একাধিক হত্যা মামলার আসামি মেহেদী হাসান শুভ নামে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জেলার রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া গ্রামের কলাকোপা এলাকায় সৈয়দ আলী মেম্বারের বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শুভ পালট বড়ইয়া এলাকার আব্দুল্লাহ আল মাহবুব হাওলাদারের ছেলে। তিনি বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশ ও স্থাানীয়রা জানায়, শুভ রাত ১টা পর্যন্ত কলাকোপা বিশখালী নদীর পাড়ে স্থানীয় মাঠে সাত-আটজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলেন। শুভর সঙ্গে থাকা নেয়ামত, বেল্লাল, হেলালসহ সবাই মিলে শুভকে কোপায়। এ সময় শুভর শরীর থেকে বাম পা ও ডান হাত বিচ্ছিন্ন করে। পরে শরীর থেকে বিচ্ছন্ন হওয়া হাত ও পা নিয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। সকাল আটটা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে ওভাবেই পড়েছিলেন শুভ।

স্থানীয়রা আরও জানায়, নেয়ামত ফজরের আগে এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে স্থানীয় মসজিদে মাইকিং করেছে। সকাল ছয়টা পর্যন্ত নেয়ামত তাদের বড়ইয়ার বাড়িতেই ছিলেন। এরপর নেয়ামত পালিয়ে যায়।

পুলিশ আরও জানায়, শুভ কলেজ ছাত্র সোহেল রানা ও শুকুর হত্যা মামলার আসামি। রাজাপুর থানা পুলিশ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহত শুভর প্রতিবেশী স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল আহম্মদ বলেন, কলাকোপা গ্রামের কয়েকজনের ফোন পেয়ে আমরা শুভর বাবাসহ ঘটনাস্থলে ছুটে যাই, তখনও শুভ জীবিত ছিল। শুভ মারা যাওয়ার আগে তিন-চারজন হত্যাকারীর নামসহ ঘটনায় সাত থেকে আটজন জড়িত থাকার কথা বলে গেছে। আমরা শুভকে আহত অবস্থায় রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুল খায়ের মাহমুদ রাসেল বলেন, শুভর শরীর থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন হওয়া ছাড়াও মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শুভর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই চিকিৎসক।

এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদ হেসেন বলেন, শুভর নামে রাজাপুর থানায় দুটি হত্যা মামলা ছাড়াও বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ঝালকাঠি মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।