ভূমিহীনদের ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা, আটক ২

নওগাঁর ধামইরহাটে ভূমিহীনদের বাড়িঘর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ সোমবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধান আসামিসহ ২ জনকে আটক করেছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত চৌঘাট কাগজকুটা গ্রামের পুকুর পাড়ে বিভিন্ন এলাকার লোকজন নিজেদের ভূমিহীন দাবি করে ওই এলাকায় ৩৫ টি টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে অস্থায়ীভাবে ঘর নির্মাণ করে।

৩৫ টি পরিবারের মধ্যে ২০ টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার ও বাকিগুলো মুসলিম পরিবার। প্রায় দেড় মাস ধরে তারা  ঘরগুলোতে বসবাস করে আসছে।

গত রবিবার রাত ১ টায় দিকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি মুখোশ পরিহিত দল ওই পুকুর পাড়ের ঘরগুলোতে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তদের হামলায় প্রায় ১৬টি ঘর ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়। এতে ঘরগুলো আগুনে পুড়ে যায়।

সন্ত্রাসীরা ধারালো হাসুয়া, কুড়াল দিয়ে লোকজনকে কুপিয়ে এবং পেট্রোল ছিটিয়ে ঘরগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ভূমিহীন শান্তি পাহানের হাত ভেঙে যায় এবং তার ৫ বছরের ছেলে আকাশ মারাত্মক আহত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ধান, চাউল, কাপড় চোপড়, হাঁস-মুরগি, ছাগল, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন পুড়ে যায়।

বর্তমানে ঘর হারানো মানুষগুলো পুকুরের পাশে ওই এলাকার জহাঙ্গীর আলমের নির্মাণাধীন মুরগি শেডে আশ্রয় নিয়েছে।

ঘটনার সুষ্টু বিচারের দাবিতে গত সোমবার রাতে চৌঘাট খাসিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মনা পাহানের স্ত্রী দুলালী পাহান বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে ওই রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার প্রধান আসামি বস্তাবর গ্রামের আকতার হোসেনের ছেলে মোশারফ হোসেন মিস্টার এবং চককালু গ্রামের মোতারফ হোসেনের ছেলে মহব্বত হোসেনকে আটক করে।

মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এর আগে সোমবার রাতে নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ধামইরহাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্থ ৩৫ পরিবারের মাঝে ৫ হাজার টাকা এবং ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।