ইসির আলোচনায় সিইসি

মশারি টানানোর লাঠি নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণে গিয়েছিলাম

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ শুনতে মশারি টানানোর লাঠি নিয়ে রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা। মহান স্বাধীন ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এ কথা জানান তিনি।

করার চেষ্টায় বক্তব্য রাখছি না। আমি আমার জীবনের বাস্তব কিছু কথা বলছি এখন। যাদের বয়স একাত্তর সালে ১৮-২২ ছিল তারা কীভাবে স্বাধীনতাকে দেখেছিল, স্বাধীনতা অর্জনের প্রস্তুতি নিয়েছিল, তাদের মধ্যে সংগ্রামী চেতনার উন্মেষ ঘটেছিল সে কথা বলব। একাত্তরে যারা যুবক ছিল, তারা প্রত্যেকেই যার যার নিজের জায়গা থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পথে কোনো-না-কোনোভাবে ভূমিকা রেখেছিল।’

তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ শুনতে রেসকোর্স ময়দানে আমরা কেউ মশারি টানানোর লাঠি, কেউ বাঁশ এসব নিয়ে ছুটে যাই। সেখানে যে লাখ লাখ মানুষ ছিল, তার মধ্যে আমরাও ছিলাম। রাতে আমার এক স্যারের সঙ্গে দেখা করে বলিÑ বঙ্গবন্ধু তো দিকনির্দেশনা দিয়ে দিয়েছেন, এখন কী করব? স্যার বলেন, ঢাকা শহর কারও জন্য নিরাপদ নয়, তুমি বরং গ্রামে চলে যাও।’ মুক্তিযুদ্ধের পটভূমির বর্ণনা দিয়ে নুরুল হুদা বলেন, ‘৩ মার্চ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। ওইদিন ছিল ঢাকা স্টেডিয়ামে ক্রিকেট খেলা। ইয়াহিয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। আমার ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। আমরাও পরীক্ষা ফেলে পথে নেমে আসি।’ তিনি বলেন, এদেশের নদী-নালা, খাল-বিল, গাছ-পালাও ছিল স্বাধীনতার পক্ষে। ওরা সাঁতার জানত না। ফলে নদী পার হতে পারত না। ওরা গাছে উঠতে পারত না। আমাদের গেরিলা বাহিনীর সদস্যরা তালগাছের ওপর বসেও তাদের আক্রমণ করত। এভাবে পুরো মুক্তিযুদ্ধটা জনযুদ্ধে রূপান্তরিত হয়। সভায় আরও ছিলেন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম প্রমুখ।