স্বাধীনতার মূল চেতনা ধ্বংস করেছে সরকার : ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার মূল চেতনা গণতন্ত্রকে সরকার ধ্বংস করেছে। শুধু গণতন্ত্র নয়, আজকে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এর আগে সোমবার আলোচনা সভা করে বিএনপি। আজ বুধবার রাজধানীতে শোভাযাত্রা করবে দলটি। গতকাল সকাল ৯টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান এবং কিছু সময়ে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর ১০টার দিকে তারা যান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে। সেখানে কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে নিয়ে তারা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। পরে ওলামা দলের উদ্যোগে প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন তারা।

এ সময় অবিলম্বে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা দলের চেয়ারম্যান খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি। আমরা এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও স্বাধীনতার যে মূল চেতনা গণতন্ত্রকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে, গণতন্ত্রকে হরণ করা হয়েছে। আজকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে আমরা শপথ গ্রহণ করেছি যে, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমরা আন্দোলন করব, গণতন্ত্রের মুক্তির জন্য আন্দোলন করব। দেশনেত্রীকে মুক্ত করে আমরা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে এদেশের জনগণকে মুক্ত করব।’ দেশে মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘জনগণের সব অধিকার, ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। আজকে সাধারণ মানুষের স্বাধীনভাবে চলাফেরার কোনো নিরাপত্তা নেই।’

এ সময় বিএনপি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, আবদুস সালাম, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, সেলিম রেজা হাবিব, আবু আশফাক খন্দকার প্রমুখ। অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে ছিলেন আনোয়ার হোসেইন, নুরুল ইসলাম খান নাসিম, আহসান উল্লাহ হাসান, মোরতাজুল করীম বাদরু, সুলতানা আহমেদ, হেলেন জেরিন খান, সাদেক আহমেদ খান, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। জিয়াউর রহমানের কবরে বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মহানগর বিএনপি, য্বুদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ওলামা দল, মহিলা দল, মৎস্যজীবী দল, ছাত্রদল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এর আগে সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবং গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের ছবি-সম্বলিত বিভিন্ন রঙের পোস্টার বের করা হয়। কয়েকটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয় ক্রোড়পত্র। গণমাধ্যমে বিবৃতি দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব।