বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারে বাচ্চা’ সম্বোধন করায় বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হক।
বুধবার শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার এবং পাঁচ দফা দাবি মেনে না নেওয়ায় ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ভবনের নিচতলায় অবস্থান নিয়ে ওই বিক্ষোভ শুরু করে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, পাঁচ দফা বাস্তবায়নসহ শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালি দেওয়ায় উপাচার্যের ওই বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে এবং উপাচার্যকে সবার সামনে এসে ক্ষমা চাইতে হবে।
তাদের দাবির মধ্য রয়েছে, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য সিন্ডিকেট সভায় নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়া, সবাই মিলে কোনো পরীক্ষা বর্জন করলে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার জন্য জরিমানা না করা, সব শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড এক মাসের মধ্যে দেওয়া, বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ওভার ব্রিজ নির্মাণ।
জানা গেছে, মঙ্গলবার স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে পালনের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখায় শিক্ষার্থীরা। তারা ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ২১ ফেব্রুয়ারিসহ সব জাতীয় দিবসে ছাত্র-শিক্ষক সবার উন্মুক্ত অংশগ্রহণে সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ বিভিন্ন দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম ইমামুল হক স্বাধীনতা দিবসে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিন্তু ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়া অন্য আয়োজনে শিক্ষার্থীদের (মধ্যাহ্নভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান) রাখা হয়নি। ঘরোয়াভাবে কর্মসূচি পালনের প্রতিবাদ করে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির এক কর্মসূচিতে উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করেন। ওই বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্য প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা মানতে ক্লাস পরীক্ষা বন্ধের আল্টিমেটাম দেয়।
এ বিষয়ে ড. ইমামুল হক মুঠোফোনে জানান, শিক্ষার্থীদের সারা বছরই আলাদা বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা রয়েছে। এমনকি স্বাধীনতা দিবসেও তাদের আলাদা কর্মসূচি রয়েছে। বছরে শুধু বিশেষ এসব দিনে উপাচার্যের পক্ষ থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা, বরিশালের বিশিষ্ট নাগরিক এবং সাংবাদিকদের চা-চক্রের আমন্ত্রণ জানানো হয়ে। এখানে ছাত্রদের কখনো রাখা হয় না, হঠাৎ করে এ বছর শিক্ষার্থীরা তাদের না রাখা হলে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হবে না এমন হুমকি দেয়।
উপাচার্য আরো বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (বিইউডিএস)’র অনুষ্ঠানে আমি বলেছি, যারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান চায় না, যারা এভাবে কথা বলে তাদের আমি কী বলে আখ্যায়িত করব। তাদের স্বাধীনতার পক্ষে বলে তো মনে হয় না, রাজাকারের মতোই ব্যবহার।
তিনি বলেন, আমি শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে রাজাকারের বাচ্চা কীভাবে বলি? বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও তো রয়েছে। আমার কথা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর কারণ হলো অন্য, আমার আর সময় রয়েছে দুই মাস, আবার যদি আমাকে সময় বাড়িয়ে দেয় এই ভয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখানোর চেষ্টা চলছে। আমি থাকলে অনেকে বিপদে পড়ে যেতে পারেন।