ওসির নির্যাতনে আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন সুমন

লালমনিরহাট সদর উপজেলার জাকির বিন শহিদ সুমন নামের এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেজাউল করিম রেজার বিরুদ্ধে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরে একপর্যায়ে সুমন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে তার বাবা শহিদুল্লাহ জানান।

নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে সুবিচার চেয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সুমন। গতকাল বুধবার লালমনিরহাট শহরের মিশনমোড়ে একটি পত্রিকা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্যাতনের ঘটনা জানান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে বাবা শহিদুল্লাহ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানা যায়, জাকির বিন শহিদ সুমন কম্পিউটার সল্যুশনস নামের প্রতিষ্ঠানের রংপুর অফিসের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার ছিলেন। চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানের মালিক আবুল হোসেনের কাছে ছাড়পত্র চাইলে টালবাহানা শুরু করেন তিনি। পরে গত ৯ জানুয়ারি রংপুর সদর থানার পুলিশ জাকিরকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই থানায় নিয়ে আসে। সেখানে আবুল হোসেন ওসির কক্ষে উপস্থিত থেকে তার পাওনা ৪৭ লাখ টাকা দাবি করেন। ওই টাকা ব্যবসায়িক কারণে বাজারে বকেয়া পড়ে আছে বলে জাকির জানালে ওসি গালিগালাজ করে প্রতিষ্ঠানের অন্য হিসাবের পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন।

১০ জানুয়ারি তার বাবাকে রংপুর থানায় আনা হয়। পাশের কক্ষে ছেলের ওপর নির্যাতনে ভীত হয়ে পড়েন শহিদুল্লাহ। একপর্যায়ে ওসির কথামতো সুমনের গাড়ি, চেক এবং ৫০ হাজার টাকা এবং স্ট্যাম্পে স্বীকারোক্তি দিয়ে রাতে মুক্তি পায় জাকির।

ওসি রেজাউল করিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, থানায় নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বাইরে দুই পক্ষ আপস-মীমাংসা করেছে। পুলিশ কমিশনার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান এডিসি শহিদুল্লাহ কাওছার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে মেট্রোপলিটন কমিশনার সিদ্ধান্ত নেবেন।