আবরার হত্যা

মালিকের নির্দেশে চালকের আসনে কন্ডাক্টর ইয়াছিন

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী হত্যা মামলার মূল সন্দেহভাজন সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত ইয়াছিন মালিকের নির্দেশেই বাসটি চালিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ইয়াছিনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন।

এদিকে সুপ্রভাত বাসের কন্ডাক্টর ইয়াছিন আরাফাত ও হেলপার ইব্রাহিমের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বুধবার তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরী সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ডিবির ভাষ্য, গত ১৯ মার্চ ভোর পৌনে ৫টার দিকে পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক থেকে ছেড়ে আসা সুপ্রভাত পরিবহনটির চালক সিরাজুল ইসলাম গুলশান থানাধীন শাহজাদপুরের বাঁশতলা অতিক্রম করার সময় মিরপুর আইডিয়াল গার্লস ল্যাবরেটরি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী সিনথিয়া সুলতানা মুক্তাকে চাপা দিয়ে গুরুতর জখম করে। ওই ঘটনায় সুপ্রভাত পরিবহনের যাত্রীরা চালক সিরাজুলকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশে হস্তান্তর করে। খবর পেয়ে উপস্থিত লোকজন বাসের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করেন মালিক ননী গোপাল। পরে তার নির্দেশে ড্রাইভিং লাইসেন্স, পারমিট না থাকার পরও বাসটি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালায় কন্ডাক্টর ইয়াছিন। পালিয়ে যাওয়ার সময় সে নদ্দায় বিইউপির ছাত্র আবরারকে চাপা দিয়ে হত্যা করে। ওই বাসের মালিক ননী গোপাল গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার জানান, গত মঙ্গলবার চাঁদপুর থেকে ইয়াছিন আরাফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে ওই বাসের সহকারী ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। দুর্ঘটনার পর বাসের প্রকৃত চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াছিন ও ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে বাসচালক সিরাজ দুর্ঘটনার কথা স্বীকার করায় পুলিশ ধারণা করেছিল, সিরাজই আবরারকে হত্যা করেছে। সেজন্য পুলিশ তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে আনে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তা ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি রিমান্ডে থাকা বাসচালক সিরাজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে।

আবদুল বাতেন জানান, আবরারকে হত্যা করার পর বাসটিকে ফেলে দিয়ে আত্মগোপনে যায় ইয়াছিন। তাকে আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়ার পর জড়িত ব্যক্তিদের নামে এক মাসের কম সময়ের মধ্যে উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

গত ১৯ মার্চ সুপ্রভাত পরিবহনের বাসচাপায় আবরার নিহত হন। ওই ঘটনায় গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।