অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা ও দেশের মানুষের অবস্থা বিচারে বৈশ্বিক সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবনমন হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক নাগরিকত্ব ও রেসিডেন্সবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের গত মঙ্গলবারের প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ৯৭তম স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে আছে ইরান ও দক্ষিণ সুদান।
হেনলির সূচকে বলা হয়, ১০৪টি দেশের অবস্থানের মধ্যে বাংলাদেশ ৯৭তম স্থানে রয়েছে। সূচকে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট। উল্লেখ্য, গত বছর এই সূচকে বাংলাদেশের পাসপোর্টের অবস্থান ছিল ১০০তম।
বিভিন্ন দেশে ২৫টি কার্যালয় রয়েছে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের। রেসিডেন্সি সুবিধার বিনিময়ে বিনিয়োগ আকর্ষণের কর্মসূচি প্রণয়নে বিভিন্ন দেশের সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি।
বিনা ভিসায় বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণ সুবিধার ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের মূল্যায়ন করে হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স। ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) তথ্য ব্যবহার করে তৈরি একমাত্র সূচক এটি। ভ্রমণবিষয়ক তথ্যের সবচেয়ে বড় আকর থেকে নেওয়া উপাত্তের পাশাপাশি হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স নিজস্ব গবেষণার ভিত্তিতে পাসপোর্ট সূচক প্রণয়ন করে।
এক দশক আগেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় সম্ভাব্য ২২৭টি দেশের মধ্যে ৩৯টি দেশে ভ্রমণ করতে পারত। কিন্তু বর্তমানে ৪১টি দেশে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই তুলনায় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের পাসপোর্টধারীরা এখন ৬০টি দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যেতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের পাসপোর্টের চেয়েও দুর্বল অবস্থানে আছে নেপাল, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের পাসপোর্ট। তবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ৫৮তম স্থান নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে আছে মালদ্বীপ। অন্যদিকে ভারত ৮০, ভুটান ৮৪ এবং শ্রীলঙ্কা রয়েছে ৯৫তম স্থানে।
বিবিসির প্রতিবেদন মতে, পাসপোর্টের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে নাগরিকত্বের মূল্যায়ন করা হয়। পাসপোর্টের এই র্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একটি দেশ ও ওই দেশের মানুষ কেমন ব্যবহার পাবেন তা যাচাই করা যায়। কোনো দেশের ভিসার জন্য আবেদন করলে হয়তো কিছুটা নমনীয়ভাবে দেখা হয়। র্যাংকিংয়ে নিচের দিকে থাকলে ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে পাসপোর্টধারী সম্পর্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খোঁজখবর নেওয়া থেকে শুরু করে ভিসার আবেদন নাকচও করতে পারে যে কোনো দূতাবাস।