চেয়ারম্যান কান ছিঁড়ে নিলেন নারী মেম্বারের

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মতিন মন্ড একই ইউপির একটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী মেম্বারের কান ছিঁড়ে নিয়েছেন। এছাড়া ওই মেম্বারের একটি হাতও ভেঙে ফেলেছেন চেয়ারম্যান। গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তাকে গুরুতর অবস্থায় টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

চৌহালীর ইউএনও আবু তাহির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দুপুরে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ম-লের বিরুদ্ধে ওই মহিলা মেম্বার ভিজিডি কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ তার কার্যালয়ে জমা দিয়ে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে ওই নারী মেম্বার জানান, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ম-ল তাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছে। এতে রাজি না হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের নানা উন্নয়নমূলক কাজ থেকে তাকে বঞ্চিত করে রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, এদিন চৌহালী ইউএনওর কাছে তার নির্বাচনী এলাকার ভিজিডি কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে চেয়ারম্যানের অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে ফেরার সময় চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ও তার লোকজন তাকে বেধড়ক মারধর করে তার বাম হাত ভেঙে দেয় এবং একটি কান ছিঁড়ে নেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মতিন ম-ল বলেন, আমি একজন হাজি মানুষ। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি। কুপ্রস্তাব দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। ভিজিডি কার্ডের কথা বলে ওই নারী সদস্যই জনসমক্ষে আমাকে কিল-ঘুষি দিয়ে আমার জামার কলার ছিঁড়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে চৌহালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে দুপক্ষকেই সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।