নৌকায় ভোট দেওয়ায় প্রতিবন্ধীর ওপর বিদ্রোহীর হাতুড়ি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় সদ্য সমাপ্ত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার অপরাধে এক প্রতিবন্ধী যুবককে প্রতিপক্ষের লোকজন হাতুড়িপেটা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের নাগড়ীপাড়া গ্রামে তার ওপর এই হামলা হয় বলে জানান প্রতিবন্ধী হুমায়ন কবীর। তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে হুমায়ন কবীর দেশ রূপান্তরকে জানান, গত ২৪ মার্চ উপজেলা নির্বাচনে তাদের প্রতিবেশী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে প্রিন্স আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী দোয়াত-কলম প্রতীকের আবদুল্লাহ হেল কাফীর পক্ষে অবস্থান নেয়। প্রিন্স তাদেরও কাফীর পক্ষে কাজ করতে চাপ দেয়। কিন্তু আগে থেকেই পারিবারিকভাবে আওয়ামী লীগ সমর্থক হওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নৌকা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন। নির্বাচনে দোয়াত-কলম প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হন।   পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৪ >

হুমায়ন কবীর বলেন, ‘দোয়াত-কলম প্রতীকে ভোট না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রিন্স এবং স্থানীয় বিএনপি কর্মী খায়ের ও আরেফিনসহ কয়েকজন পাল্লাবাজারে আমার দোকানে হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে আমাকে জখম করে। এ সময় হামলাকারীরা দোকানের মালামাল ও ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে আশপাশের দোকানদাররা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

এ ঘটনায় তিনি মহম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করেনি বলে অভিযোগ করেন হুমায়ন কবীর।

হুমায়নের ওপর হামলার পর থেকে প্রিন্সসহ অন্য অভিযুক্তরা পলাতক। প্রিন্সের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল মান্নান বলেন, ‘হামলার ঘটনায় প্রিন্সসহ তিনজনের নামে হুমায়ন থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। কিন্তু তা এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। এমনকি পুলিশ এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। পছন্দের প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য এভাবে একজন প্রতিবন্ধীর ওপর হামলা চরম ন্যক্কারজনক।’

হুমায়নের ওপর হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করতে পারার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মহম্মদপুর থানার ওসি রবিউল হোসেন বলেন, ‘হামলার বিষয়টি অবগত হওয়ামাত্র ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু অভিযুক্তদের কাউকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তবে তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।’