মানবতাবিরোধী অপরাধ

নেত্রকোনার পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে হত্যা ও ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে নেত্রকোনার পূর্বধলার পাঁচ রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় দেয়। অন্য দুই বিচারপতি হলেন বিচারপতি আমির হোসেন ও বিচারপতি আবু আহমেদ জমাদার।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শেখ মো. আবদুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা (৬৬), মো. আবদুল খালেক তালুকদার (৬৭), মো. কবির খান (৭০), আবদুস সালাম বেগ (৬৮) ও নুরউদ্দিন (৭০)। এ মামলার সাত আসামির মধ্যে আহাম্মদ আলী (৭৮) ও আবদুর রহমান (৭০) গ্রেপ্তারের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রায়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তারে স্বরাষ্ট্র সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আর তারা আত্মসমর্পণ করলে সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ পাবেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করা প্রসিকিউটর মোখলেছুর রহমান বাদল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী

 

 

গাজী এম এইচ তামিম বলেন, আসামিরা আত্মসমর্পণ করলে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ২০১৭ সালের ১২ জুন এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। বিচার চলাকালে তদন্ত কর্মকর্তাসহ ২৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। সবগুলো অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে বলা হয়েছে।

নেত্রকোনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, বিভিন্ন মিডিয়ায় এ খবর প্রকাশের পর নেত্রকোনার মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে খুশির আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দুপুরে তারা শহরের মোক্তারপাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে ভিড় জমান।

মুক্তিযুদ্ধকালীন উইং কমান্ডার ও সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. শামছুজ্জোহা বলেন, ‘আমরা আরও যাদের নামে অভিযোগ দিয়েছি ট্রাইব্যুনাল তাদের বিচারও করবে বলে আশা করি।’