নিউজিল্যান্ডের মানুষ শান্তির মাধ্যমেই সহিংসতার জবাব দিয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন। গত বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলায় নিহতদের স্মরণে শোকসভা পালন করে দেশটির সরকার। এ সময় জেসিন্ডা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন
দেশটির মুসলিম নেতারা।
এ সময় তিনি বলেন, ‘বিশ্ব এখন উগ্র সন্ত্রাসবাদের চক্রে আটকে গেছে। তবে এর সমাধান মানবতার মধ্যেই রয়েছে।’
সন্ত্রাসী হামলায় আক্রান্ত আল নূর মসজিদের সামনে হ্যাগলি পার্কে উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জেসিন্ডা বলেন, ‘আমরা ঘৃণা, ভয় ও অন্যান্য ভাইরাস থেকে মুক্ত নই। কখনো ছিলাম না। কিন্তু আমরা এমন একটা জাতি হতে পারি, যারা এই রোগ নিরাময় করতে পারে।’ স্মরণসভায় ১৯৭০ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা ব্রিটিশ গায়ক কেট স্টিভেনও অংশগ্রহণ করেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ক্রাইস্টচার্চের হেগলি পার্কে আয়োজিত ওই স্মরণসভায় যোগ দিয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ।
ভয়াবহ ওই হামলা থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন ফরিদ আহমেদ। কিন্তু তার স্ত্রী হুসনা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। কিন্তু স্ত্রীর মৃত্যুর পরও ফরিদ জানিয়েছেন, তিনি ওই হামলাকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন একটি হৃদয় চাই না, যা আগ্নেয়গিরির মতো উত্তপ্ত। আমি এমন একটি হৃদয় চাই, যা ভালোবাসা এবং মায়ায় পূর্ণ এবং যার মধ্যে করুণা থাকবে।’
এদিকে গতকাল শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন নিউজিল্যান্ড সফরকালে জেসিন্ডার সঙ্গে ক্রাইস্টচার্চের একটি হোটেলে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় স্কট বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু আমরা একই ব্যথা অনুভব করেছি। অনেক দূরে থেকেও অস্ট্রেলিয়ার জনগণ ওই হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।’ এ সময় জেসিন্ডা আরডার্ন মরিসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সমর্থনে নিউজিল্যান্ড ধন্য।
গত ৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালায়। এতে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে ৪০ জনকে ক্রাইস্টচার্চের নিউ পার্ক সমাধিতে দাফন করা হয়।