পাকা দালান হলো না, লাশ হয়ে ফিরলেন রাব্বী

আগামী শবেবরাতের ছুটিতে বাড়ি আসার কথা ছিল আমির হোসেন রাব্বীর (২৮)। কৃষক বাবার টিনের ঘরের বদলে হবে পাকা দালান। ছেলের পাঠানো টাকায় কেনা হয়েছে ইট। ছেলে ফিরলে বাকি আয়োজনও সম্পন্ন হবে। সেই ছেলে ফিরল, কিন্তু পাকা দালান আর হলো না। চিরতরে মাটির ঘরে শায়িত হলেন রাব্বী। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তার বাবা-মা। গত বৃহস্পতিবার

রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডে শুধু রাব্বীর দেহই  পোড়েনি, পুড়েছে দরিদ্র আইয়ুব আলী শেখের স্বপ্নও। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বনগ্রাম চরপাড়া গ্রামের এই কৃষকের একমাত্র ছেলে রাব্বী ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখায় ভালো ছিল। পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে অর্থনীতিতে মাস্টার্স সম্পন্নের পর ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সর্বশেষ এফ আর টাওয়ারের ১১ তলায় অবস্থিত ইকু লাইন বায়িং হাউসে এক্সিকিউটিভ পদে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়িতে রাব্বীর মরদেহ পৌঁছালে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে আশপাশ। জুমার নামাজের পর চরপাড়া মসজিদে জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে রাব্বীকে দাফন করা হয়।

রাব্বীর ছোট বোন ফারজানা খাতুন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার কিছু পরে মোবাইল ফোনে ভাইয়ের সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। রাব্বী তাকে বলেছিলেন, ‘বাবা-মাকে দেখে রাখিস।’ পরে টেলিভিশনের খবরে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। নিহতের বাবা ইয়াকুব আলী বলেন, ‘পাকা ঘর বানাবে, আমাকে হজে পাঠাবে কত স্বপ্ন ছিল রাব্বীর। ছেলের বিয়ের জন্য মেয়েও দেখতে শুরু করেছিলাম। অথচ আমার সোনার টুকরার এমন পরিণতি হবে কে জানত?’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম নিহতের বাড়িতে গিয়ে দাফনের জন্য ২০ হাজার টাকা সরকারি অনুদান দেন।