সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন মডেল ও অভিনেত্রী পি জে হেলেন। গত শুক্রবার রাতে তিনি ফেইসবুকে লেখেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যে লাইভে আসছি। এটাই হয়তো শেষ। আমাকে ক্ষমা করে দিয়েন, কারও মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে।’ এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার ঠিক ৬ মিনিট পরই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না প্যাঁচানো আরেকটি ছবি পোস্ট করেন হেলেন। পরে তার মা জেবি ঝরনা দরজা ভেঙে মেয়েকে উদ্ধার করেন। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে হেলেনের মা বলেন, ‘ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার আগে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খায় হেলেন। এরপর ঘরের সিলিং ফ্যানে ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করে। তার বন্ধুদের মধ্য থেকে কেউ একজন ফোন করে আমাকে খবরটি জানায়। আমি দ্রুত ওর রুমে যাই। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ভাঙতে বাধ্য হই। এরপর মেয়েকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ওকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। শনিবার সকালে তাকে মগবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখানে চিকিৎসক তাকে কয়েক দিন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পি জে হেলেন এমন পোস্ট দেওয়ার পর বন্ধুরা তার মাকে কল করেন। খবর পেয়ে হেলেনের মা সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে দেখেন, মেয়ের ঘর ভেতর থেকে বন্ধ। এরপর দরজা ভেঙে হেলেনকে অজ্ঞান অবস্থায় পান তারা।
পি জে হেলেন অভিনেতা নিরবের সঙ্গে ‘গেম রিটার্নস’ ছবিতে কাজ করেছেন। নিরব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পি জে হেলেন আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিল। তবে এখন ও ঠিক আছে।’
পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই হতাশায় ভুগছিলেন পি জে হেলেন। এর আগেও একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হেলেন গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনেক দিন ধরে হতাশার মধ্যে আছি। কাউকে কিছুই বলতে পারি না। আবার আমার সঙ্গে যা হচ্ছে, তা-ও সহ্য করতে পারছি না। এসব হতাশা কোনো কাজ নিয়ে নয়। একেবারে ব্যক্তিগত সমস্যা। কোনো কিছু ভেবে না পেয়ে, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আমার মাথা কাজ করছিল না। এখন বুঝতে পারছি, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার মোটেও উচিত হয়নি।’
হেলেন বিজ্ঞাপনেও কাজ করেন। তিনি প্রাণ পিকেল, ইস্পাহানি চা, অলিম্পিক টুইংকেল বিস্কুট, মোজো, সহজ ডটকম, আরএফএল ফ্রেসকো কনটেইনার ও আরএফএল টিউবঅয়েলসহ বিভিন্ন পণ্য ও সেবার বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন।