নোয়াখালির সূবর্ণচরে আবারো ভোটের রাতে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহী প্রার্থীর চশমা মার্কায় ভোট দেওয়ায় ছয় সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করেছে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। চর জব্বার থানায় এ মামলায় দুই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মুমূর্ষু অবস্থায় ওই নারীকে রোববার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মহিউদ্দিন আজিম জানান, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন রবিবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে সূবর্ণচর উপজেলায় চর জব্বার ইউনিয়নে উত্তর বাগগ্যার এক গৃহবধূ ও তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গাইনি বিভাগীয় প্রধান নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আবু নাছেরের তত্ত্বাবধানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে সোমবার এ প্রতিবেদককে জানান, তিনি ও তার স্বামী সূবর্ণচর উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ভাইস চেয়ারম্যান তাজ উদ্দিনের চশমা প্রতীকের পক্ষে কাজ করেন। এতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তালা প্রতীকের বাহার চৌধুরীর সমর্থক আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ মাঝি ভোটের আগের দিন রাতে বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না আসতে হুমকি দেয়।
তিনি আরো জানান, তারপরও রবিবার ভোটের দিন তিনি ও তার স্বামী চশমা মার্কায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে বাইরে আসলে আওয়ামী লীগ নেতা ইউসুফ মাঝিসহ সাঙ্গপাঙ্গরা তাকে ‘রাতে দেখাবে’ বলে হুমকি দেয়। সন্ধ্যা ৭টায় আটকপালিয়া বোনের বাড়ি থেকে রার পথে রুহুল আমিনের মাছের খামারের নিকট পৌঁছালে ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে বেছু মাঝি, আবুল বাসার, ফজলুল হক, হেলাল উদ্দিন, রুবেল, আরমান, জাহানসহ ১০-১২ জন তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে।
ওই নির্যাতিতা নারীর ভাষ্যে, এরপর পাঁচ/ছয়জন তার স্বামীকে চেপে ধরে। আওয়ামী লীগ নেতা বেছু মাঝি, আবুল বাসার ও ফজলুল হক কয়েকবার ধর্ষণ করে। এতে তিনি জ্ঞান হারান। ধর্ষকরা তাকে মারধরও করে। এরপর স্বামীর আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে।
হাসাপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খলিল উল্যা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে জখমের দাগ পাওয়া গেছে এবং ধর্ষণের আলামত স্পষ্ট।
এ দিকে সকল ১১টায় অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার দ্বীপক জ্যোতি খিসা, হাসপাতালে ভিকটিমকে দেখতে যান।
নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরিফ জানান, ইতিমধ্যে ঘটনার মূল নায়ক ইউসুফ মাঝি ও ধর্ষক আবুল বাসারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। চরজব্বার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহেদ হোসেন জানান, ওই নারীর স্বামী মো. শাহাজাহান বাদী হয়ে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
গত ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটের দিন রাতে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় এক নারী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। দেশজুড়ে যা আলোচনায় আসে। সে মামলা এখনো চলছে।