এই বছরের শুরুতে ‘গ্রামীণ মানুষের জীবনমান ও গ্রাম উন্নয়ন নীতিমালা’ শীর্ষক একটি সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী হিসেবে আমি গ্রাম উন্নয়নের কিছু পদক্ষেপ এবং ভাবনা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। জানুয়ারি মাসের সাতাশ তারিখে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-‘পবা’ সেমিনারটি আয়োজন করেছিল। এই লেখায় সে সব বিষয় এবং প্রস্তাবনাগুলো নিয়েই আলোচনা করব। ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারের ৩.১০ অনুচ্ছেদ ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’-এ বর্ণিত হয়েছে বাংলাদেশের গ্রামগুলোর আধুনিকায়ন নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা। নিঃসন্দেহে গ্রামপ্রধান বাংলাদেশের জন্য এটি একটি আশা জাগানিয়া প্রতিশ্রুতি। ইতিবাচক বিষয় হলো, উন্নয়ন চিন্তার মধ্যে সর্বপ্রথম আমাদের গ্রামকে স্থান দেওয়া। আধুনিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধা এবং নাগরিক অধিকার গ্রামেও নিশ্চিত করা।
এক্ষেত্রে মূল চিন্তা করতে হবে গ্রামের সাধারণ মানুষদের জীবনযাত্রার কী কী স্বাভাবিক পরিবর্তন আনলে তারা একটি সুন্দর এবং সুস্থ পরিবেশবান্ধব অবস্থানে তাদের নিজ গ্রামে বসবাস করতে পারবে। সেক্ষেত্রে তাদের সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে, তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে, তাদের নিজস্ব জীবনযাত্রাকে উপলব্ধি করে কাজগুলো করতে হবে। কারণ পরিবেশ দূষণের হাত থেকে শুধু শহরের জীবনযাত্রাকেই রক্ষা করাই শেষ কথা নয়, বাঁচাতে হবে গ্রামের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে। খেয়াল রাখতে হবে তাদের স্বাস্থ্যের দিকেও। এখনই উপযুক্ত সময় বাংলাদেশের সবুজ গ্রামগুলোকে রক্ষা করা। কিন্তু তার জন্য দরকার সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মানসিকতার পরিবর্তন। কারণ যেখানে-সেখানে অপরিকল্পিত স্থাপনা বানানো, রাস্তাঘাট বানানো এবং যে কোনো ধরনের অপরিকল্পিত নির্মাণ একটি গ্রামের সবুজ রূপরেখাকে মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে। তখন আজ যেমন আমরা আমাদের শহরগুলোকে এরই মধ্যে বসবাসের অনুপযোগী করে ফেলেছি, বিষাক্ত করে ফেলেছি, ঠিক তেমনিভাবেই গ্রামগুলোও স্বাভাবিকতা হারিয়ে বিনষ্ট হয়ে যাবে। তাই আমরা চাই এখন থেকেই ‘সবুজ ও টেকসই’ পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে।
গ্রাম উন্নয়নের প্রস্তাবনাগুলো
গ্রামের উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন। এমনকি শহরকেন্দ্রিক সব সুযোগ-সুবিধা অল্প পরিসরে হলেও গ্রামগুলোতে থাকা প্রয়োজন। একে এক কথায় বলা যেতে পারে শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য কমানো। এর জন্য কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে। সরকারিভাবে গ্রাম উন্নয়নের জন্য ‘অ ঞঙঙখকওঞ ঋঙজ ঞঐঊ উঊঠঊখঙচগঊঘঞ ঙঋ ঝগঅজঞ এজঊঊঘ ঠওখখঅএঊঝ ওঘ ইঅঘএখঅউঊঝঐ’ প্রণয়ন করা যেতে পারে যেখানে কৃষি, পানি, শক্তি, স্যানিটেশন, আবাসন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি বিশেষায়িত বিভাগগুলো থাকতে পারে।
একটি গ্রামে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর নাগরিক প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে কিছু সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামো থাকা প্রয়োজন। যেমন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এমনকি মুদি দোকান কিংবা পাঠাগার। কিন্তু সেটি হতে হবে নির্দিষ্ট গ্রামের জীবনযাত্রার রূপরেখা বিবেচনায় রেখে। কারণ আমাদের প্রতিটি গ্রামে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন কিছু বৈশিষ্ট্য, যা একটি থেকে আরেকটিকে আলাদা করে। গ্রাম উন্নয়নে এগুলোর চিন্তা এবং গবেষণা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
শক্তির ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে গ্রামের আবাসনসহ অন্যান্য খাতকে সংখ্যা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের রেটিংয়ে ভাগ করা যেতে পারে। এবং এই রেটিং সংখ্যা স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। যে স্থাপনার রেটিং যত বেশি তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে। এতে করে গ্রামবাসীর মধ্যে টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার আরও আকৃষ্ট করবে। আমাদের দেশেও এমন চিন্তা করার সময় এসেছে বৈকি গ্রাম এবং শহর উভয় ক্ষেত্রেই! তবে চিন্তা করতে হবে আমাদের নিজেদের মতো করে। প্রয়োজন গ্রামের আবাসন এবং অন্যান্য শিল্পে দেশীয় প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দিকনির্দেশনা।
বাংলাদেশের গ্রামগুলোর আবাসন, অবকাঠামো এবং দূষণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত উন্নয়নের চিন্তা এবং এসব বিষয়ে আরও কীভাবে কাজ করা যায়, গবেষণা করা যায় এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাব স্থাপন আমাদের দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্মপরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। এমনকি বেসরকারিভাবেও বেশ কিছু প্রায়োগিক গবেষণা হতে পারে। এক্ষেত্রে স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এলাকাভিত্তিক গ্রামগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে গবেষণার মাধ্যমে। সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে টিম তৈরি করে এই গবেষণা এবং বাস্তবায়ন হতে পারে। মোট কথা, আমাদের দেশের নিজস্ব মেধাকে কাজে লাগাতে হবে সবক্ষেত্রেই।
পরিবেশ দূষণের হাত থেকে গ্রামের মানুষদের কীভাবে রক্ষা করা যায়Ñ ল্যাব পর্যায়ে নতুন পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারে গবেষণার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্থাপনার নকশা প্রণয়নের মাধ্যমে এগুলো করা সম্ভব বৈকি আমাদের দেশেই! তবে প্রয়োজন পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। প্রয়োজন শুধুমাত্র কাগজে-কলমের গবেষণার মধ্যে না থেকে প্রায়োগিক গবেষণা। এসব ক্ষেত্রে বিশেষ করে গ্রাম উন্নয়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিভাগ আমাদের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে প্রথমেই প্রয়োজন ‘ইকো ভিলেজ কিংবা স্মার্ট ভিলেজ’ ধারণাটিকে গ্রহণ করতে হবে গ্রামপরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে।
গ্রামের উন্নয়নের পূর্বশর্ত সেখানকার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন। এক্ষেত্রে গ্রামের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করতে হবে এবং সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। সর্বক্ষণ পর্যাপ্ত ডাক্তার এবং ওষুধ থাকতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যসেবার মান সুনিশ্চিত করতে হবে। গ্রামে দায়িত্ব পালনে থাকা ডাক্তারদের সকল ধরনের নিরাপত্তা এবং তাদের জীবনমানে সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রামের শিক্ষাকে আনন্দদায়ক করতে হবে। স্কুল-কলেজকে নতুনভাবে সজ্জিত করতে হবে, প্রাণের আহ্বানে। অভিজ্ঞ শিক্ষক যেন গ্রামে বসবাস করার অনুপ্রেরণা পান সে জন্য তাদের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে, এমনকি সেটি হবে শহরের সুযোগ-সুবিধার কোনো অংশে কম নয়। গ্রামগুলোতে অবকাঠামোগত উন্নয়নে ‘মডুলার সিস্টেম কনস্ট্রাকশন’-এর ব্যবস্থাপনায় করা যেতে পারে। এতে করে যে কোনো স্থাপনা খুব কম সময়ে তৈরি করা সম্ভব এবং যার দরুন নির্মাণকল্পে অযাচিত ধুলোবালি চারদিক দূষিত করবে না। তবে এ ধরনের ‘মডুলার সিস্টেম কনস্ট্রাকশন’-এর কারিগরি ক্ষেত্রে আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরি করতে হবে সর্বপ্রথম। এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় আর্থিক অপচয় কম হবে।
বাংলাদেশের গ্রামগুলোর জন্য সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ‘স্থাপনা নির্মাণ বিধিমালা’ থাকতে হবে যা বর্তমানে প্রচলিত শহরের জন্য প্রযোজ্য নির্মাণ বিধিমালা থেকে আলাদা হবে। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞদের নিয়ে একটি কর্ম-কমিটির মাধ্যমে কাজটি করা যেতে পারে। কারণ আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত গ্রামপ্রধান স্থাপনা নির্মাণ, জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোনো স্পষ্ট নীতিমালা নেই, যার বাস্তবায়ন অতি দ্রুত করা অতি জরুরি।
এই বাংলাদেশে প্রতি বছর অনেক নতুন প্রযুক্তির উদ্ভব হয়। কিন্তু বিকাশ হয় না, অঙ্কুরেই ঝরে যায়। ল্যাবরেটরিতেই সে সব প্রযুক্তির অকাল মৃত্যু ঘটে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রতিনিয়ত আমরা বাইরের প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। অথচ আমাদের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়নে দেশীয় প্রযুক্তির ভূমিকা অনেক। আমরা কি পারি না আমাদের দেশীয় প্রযুক্তিকে নিজেদের গ্রাম উন্নয়নে সঠিকভাবে আরও বেশিমাত্রায় ব্যবহার করতে? প্রয়োজন শুধু সদিচ্ছা আর পৃষ্ঠপোষকতার।
গ্রামে বৃহৎ পরিকল্পনার চেয়ে ক্ষুদ্র এবং স্বল্প সময়ের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং দ্রুত বাস্তবায়নই হবে সব থেকে বেশি কার্যকর। কারণ কিছু উন্নয়ন খুব কম সময়ে যদি গ্রামের মানুষদের প্রভাবিত করে তাহলে তারাও সেই উন্নয়নে এবং পরবর্তী সময়ে বৃহৎ উন্নয়নে শামিল হবে।
প্রতিটি গ্রামে ছোট ছোট কিছু ‘সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ কিংবা বিনোদন কেন্দ্র থাকা আবশ্যক। গ্রামের মানুষদের মানসিক বিকাশে এর ভূমিকা অপরিসীম। গ্রামের হাট-বাজারগুলোকে নতুনভাবে আরও চমকপ্রদ করে সাজানো প্রয়োজন। এতে করে তাদের মধ্য অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আরও বাড়বে। প্রয়োজন সামাজিক সংযোগ স্থাপন, সহমর্মিতা, নির্মল পরিকাঠামো।
গ্রামে প্রতিটি স্থাপনায় বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং সোলার প্যানেলের ব্যবস্থাপনা স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা করতে হবে। সবুজ গাছপালা আমাদের গ্রামগুলোর প্রাণ। অথচ কোনো নিয়মনীতি ছাড়াই গাছ কেটে ফেলা হয়। প্রত্যেকটি গ্রামে সঠিক উপায়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। প্রয়োজনে এসব বিষয়ে মাসে অন্তত একবার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে অভিজ্ঞদের দ্বারা। গ্রামের রাস্তাঘাটগুলো জৈব উপাদান দিয়ে তৈরি করা যেতে পারে, এতে করে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে। গ্রামে অবস্থিত গভীর-অগভীর জলাধারসহ পাহাড়ি অঞ্চলগুলোয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা করার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে।
গ্রামের সবক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশ ঘটাতে হবে। বিশেষ করে প্রথম দিকে কৃষি খাতে এবং স্কুলগুলোতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাদের মাধ্যমে প্রযুক্তির জ্ঞান সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে।
গ্রামে ‘ক্লিন এনার্জি’ যেমন : বাতাস, সৌরশক্তি, বায়োগ্যাস, মাইক্রো-হাইড্রো এর ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্থানীয়ভাবে সঠিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আগামী কমপক্ষে ১০ বছরের জন্য একটি গ্রাম পরিকল্পনা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। সেখানে তিন পর্যায়ের প্রকল্প ভাগ করতে হবে স্বল্পমেয়াদি, দীর্ঘমেয়াদি এবং আশু করণীয়।
গ্রামের সকল উন্নয়ন ভাবনা অবশ্যই গ্রামের মানুষদের অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। প্রতিটি গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যালোচনা করে স্থাপনাগুলো সেভাবে টেকসই করে তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায়ে পর্যাপ্ত ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে গ্রামবাসীর মধ্যে। এমনকি প্রত্যেকটি গ্রামে দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার আশ্রয়কেন্দ্র থাকতে হবে যা বছরের বিভিন্ন সময় গ্রামের বিভিন্ন প্রোগ্রামে ব্যবহার হতে পারে।
গ্রাম পর্যায়ে স্যানিটেশনের সু-ব্যবস্থাপনা অবশ্যই থাকতে হবে। তাছাড়া বসতবাড়ির ক্ষেত্রে ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি গ্রামে অন্তত একটি করে ‘ভিলেজ নলেজ হাব’ তৈরি করতে হবে গ্রামবাসীর জ্ঞান-বিজ্ঞান বিকাশে। প্রতিটি গ্রামে কৃষিজাত পণ্যদ্রব্য সঠিক সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে।
এখনো আমাদের ভিন্ন ভিন্ন শহর, মফস্বল কিংবা গ্রামকেন্দ্রিক স্থাপত্যের নিজস্ব প্যাটার্ন বা রূপরেখা নেই, যা একে অপরের থেকে নিজস্ব রীতিনীতি, ভাবধারা কিংবা পরিবেশগত কারণে ভিন্নতর। এটা সত্যিই অনভিপ্রেত। এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই গ্রাম কিংবা মফস্বল নামক কোনো কিছুর অস্তিত্ব একরকম যে বিলীন হবে, সেটি আজকের অবস্থান থেকে নির্দ্বিধায় বলা যায়! বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৪ শতাংশ মানুষ শহরাঞ্চলে বসবাস করে। কারণ শহরগুলোতে কাজের ভালো ক্ষেত্র রয়েছে। হিসাব অনুযায়ী দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে কাজের জন্য প্রায় ৬ লক্ষ মানুষ কোনো না কোনোভাবে রাজধানী ঢাকায় আসে। মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা বসবাসের জন্য বেছে নেয় সাধারণ মানের কিছু জায়গা। এখন সময় এসেছে এই অবস্থানের পরিবর্তন করার। আমরা যদি গ্রামগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরিবর্তন করতে পারি, কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারি, বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে পারি তাহলে হয়তো এই গ্রামগুলোর মাধ্যমেই আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে এবং তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দুয়ার খুলে দেবে।