মাহী আসবেন, তাই শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হলো

মুন্সিগঞ্জ -১ আসনের সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরী আসবেন তাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে বসিয়ে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।  

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ে। সকাল ১০ টায় স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীরা বিকেল চারটায় ছুটির পরও সন্ধ্যা বাড়ি ফিরতে পারেনি।

জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টায় উপজেলার সিরাজদিখান উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে নির্মিতব্য চার তলা একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার কথা ছিল স্থানীয় সাংসদ মাহী বি চৌধুরীর।

কিন্তু এমপি মাহী বি চৌধুরী আসতে দেরি করায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পরও ছাত্র ছাত্রীদের বাধ্য করে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত থাকতে। এরপর সন্ধ্যা ৬টায় ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করেন এমপি মাহী বি চৌধুরী।

এদিকে ছুটির পরও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করতে বাধ্য হওয়া ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, সকাল থেকে ক্লাস করেছি। দুপুরে ঠিক ভাবে খেতে পারি নাই। এখন সন্ধ্যা হয়ে আসছে কিন্তু যেতে দিচ্ছে না। এমপি স্যারকে নাকি বরণ করতে হবে। হেড স্যার যেতে দেয় না। রাত হয়ে গেলে আমরা বাড়ি যাব কিভাবে?

অন্যদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসার পরও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা ছেলেমেয়েদের খোঁজ নিতে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন। তারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা সকাল ১০ টায় স্কুলে আসে। বিকাল ৪ টায় স্কুল থেকে বাড়ি যায়। আজ সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু ছেলে, মেয়ের খবর নাই। তাই স্কুলে চলে আসলাম। বলা যায় না কখন কি বিপদ হয়ে যায়।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, এখন ব্যস্ত আছি। পরে কথা হবে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী আব্দুল ওয়াহিদ মোহাম্মদ সালেহ জানান, এমপি মহোদয় কখন, কয়টা বাজে স্কুলে আসবে তা আমার জানা নাই।

এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহি বি চৌধুরী বলেন, এটা আমার পূর্ব ঘোষিত কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। আসার পথে উদ্বোধন করে আসলাম। আমি কোনো শিক্ষার্থীকে বসিয়ে রাখতে বলিনি। প্রধান শিক্ষক কৌতূহলবশতঃ বসিয়ে রেখেছে।

উল্লেখ্য, ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি ইকবাল হোসেন চোকদারের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশফিকুন নাহার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিনাথ ফৌজিয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম সোরহাব হোসেন, সিরাজদিখান থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।