বহুতল ভবন নির্মাণের আগে চুক্তি চায় মালিক সমিতি

দুই বছরের মাথায় রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি (ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন) মার্কেটে দ্বিতীয়বারের মতো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর সেখানে ফের বহুতল ভবন নির্মাণের কথা বলছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা চাইছেন, তাদের সঙ্গে চুক্তির পরই যেন ভবন নির্মাণে হাত দেওয়া হয়। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো চালুর দাবি জানিয়েছেন। নইলে অনশনে বসবেন বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।

ডিএনসিসি কাঁচাবাজারের ‘মা প্লাস্টিক’ দোকানের মালিক আল হেলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগেরবার আগুন লাগার পর ধসে পড়া ভবন অপসারণ করে টিনের মার্কেট তৈরি করতে এক মাস ১৪ দিন সময় লেগেছিল। এবার এই মার্কেট মেরামত করতে সাত দিনের বেশি সময় লাগার কথা নয়। দ্রুত দোকান চালুর ব্যবস্থা না করলে অনশনে বসা ছাড়া আর কোনো গতি থাকবে না।’

গতকাল সোমবার পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত ব্যবসায়ী প্রতি ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। গত রবিবার ১০০ শ্রমিককে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ডিএনসিসির পক্ষ থেকে আশ্বাস ছাড়া কোনো আর্থিক সহায়তা পাননি বলে জানান ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। তবে গতকাল কাঁচাবাজার ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কাছে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চেয়েছে ডিএনসিসি কর্র্তৃপক্ষ।

এদিকে কাঁচাবাজার পরিদর্শনে গিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘ডিএনসিসি কাঁচাবাজারটি ভেঙে আন্তর্জাতিক মানের শপিংমল করার কথা ছিল। যেকোনো কারণে এটা হয়নি। কিন্তু এখন জনগণের স্বার্থে যেকোনো মূল্যে এটাকে ভেঙে মার্কেট তৈরি করতে হবে।’ ২০১৭ সালের ৩ জানুয়ারি একই মার্কেটে আগুন লাগার পর তৎকালীন মেয়র প্রয়াত আনিসুল হক ডিএনসিসি মার্কেট ভেঙে শপিং মল নির্মাণের কথা বলেছিলেন।

এখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, ২০০৩ সালে মার্কেটের জায়গায় পিপিপির আওতায় ১৮ তলা গুলশান ট্রেড সেন্টার নির্মাণের দরপত্র দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েও তা করতে অপারগতা জানালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা মেট্রো গ্রুপের আমিন অ্যাসোসিয়েটস ওভারসিজ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ। ওই চুক্তিতে বলা হয়, ভবনের আটতলা পর্যন্ত থাকবে দোকান, ৯ থেকে ১৪ তলা পর্যন্ত হবে অফিস। ২ হাজার ২৪টি দোকানের মধ্যে সিটি করপোরেশন পাবে ২৭ শতাংশ। আর আমিন অ্যাসোসিয়েটস পাবে ৭৩ শতাংশ। ওগুলো বিক্রি করে তারা খরচ ও লাভ তুলে নেবে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ওই চুক্তি স্থগিত করে ভবনে ডিসিসির মালিকানা বাড়াতে বলা হয়। এরপর ডিসিসির মালিকানা ৩৭ শতাংশ করে নতুন চুক্তি হয়। কিন্তু দোকান মালিক সমিতি এ নিয়ে মামলা করলে ভবন নির্মাণ আটকে যায়।

নতুন করে আবার বহুতল ভবন নির্মাণে সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে এখানকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, বহুতল ভবন নির্মাণ সময়সাপেক্ষ। এ সময়ে অস্থায়ী দোকান ও নতুন ভবনে ক্ষতিগ্রস্তদের কীভাবে দোকান দেওয়া হবে, তার মীমাংসা আগে করতে হবে। গুলশান ১ নম্বর ডিএনসিসি কাঁচা ও সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, ‘কাঁচাবাজারের জায়গায় বহুতল ভবন করতে চাইলে আগে এখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করতে হবে। ব্যবসায়ীরা কী পরিমাণ দোকান পাবে, ভবন নির্মাণকালীন অস্থায়ী ভিত্তিতে কোথায় ব্যবস্থা করা হবেÑ এসব বিষয়ে চুক্তি ছাড়া ভবন করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত আমাদের দোকানে বসার ব্যবস্থা করার জন্য মেয়রকে বলেছি। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়ছে না।’

এদিন আগুন লাগার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পোড়া বর্জ্য অপসারণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি ডিএনসিসি। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানের সামনে দিয়ে ময়লার স্তূপ জমে আছে। পোড়া মালামাল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে আশপাশে।