স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুর্নীতি

আবজাল-রুবিনা সিন্ডিকেটের ৬ কর্মকর্তাকে দুদকের জেরা

দুর্নীতির জন্য কুখ্যাতি লাভ করা আবজাল-রুবিনা সিন্ডিকেটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৬ কর্মকর্তাকে গতকাল সোমবার দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদকের উপপরিচালক সামছুল আলমের নেতৃত্বে বিশেষ একটি দল। ওই ৬ কর্মকর্তা হলেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজাউল করিম, কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মায়েনু, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাখাওয়াত হোসেন, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল মাজেদ ও হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল বরকত মোহাম্মদ আদনান। এই টিম আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল আরও ৯ জনকে জেরা করবে।

আরও যাদের ডাকা হয়েছে তারা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ও লাইন ডিরেক্টর আবদুর রশীদ, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ সুবাস চন্দ্র সাহা, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ নুরুল আলম, সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শহিদুল হক, অ্যানাটমি বিভাগের প্রভাষক আশরাফুল ইসলাম, প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান, স্টোরকিপার আবু জায়েদ ও হিসাবরক্ষক হুররমা আক্তার খুকী।

এসব ব্যক্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবজাল হোসেন ও তার স্ত্রী রুবিনা খানমের মালিকানাধীন রহমান ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে ব্যবসা করতেন। এই প্রতিষ্ঠানটি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয় ও সরবরাহের নামে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবজাল সিন্ডিকেটর দুর্নীতির সদস্য হিসেবে গত ২৪ মার্চ ১৫ জনকে তলব করে দুদক।

আরও দুজনকে তলব : একই অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আরও দুজনকে তলব করা হয়েছে। উপপরিচালক সামছুল আলমের পাঠানো নোটিসে তাদের ৭ এপ্রিল দুদকে হাজির হতে বলা হয়েছে। তলবিরা হলেনÑ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মহিউদ্দিন ফারুক, খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের অফিস সহকারী এস এম ওয়াহিদুজ্জামান। তাদের বিরুদ্ধেও ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডারে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি টাকা আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়েছে দুদক।

প্রসঙ্গত, আবজাল-রুবিনা দম্পতি মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনের চাকরি করে দুর্নীতির মাধ্যমে ১৫ হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ পেয়ে তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক। সম্প্রতি তারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে খবর বেরিয়েছে। দুদক তাদের পালানোর বিষয়টি এখনো স্পষ্ট করেনি।