১৭১৬ কোটি রুপির ইলেক্টোরাল বন্ড বিক্রি

ভারতে নির্বাচনকে সামনে রেখে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ১ হাজার ৭১৬ কোটি রুপি মূল্যের ইলেক্টোরাল বন্ড বিক্রি হয়েছে। বিপুল অঙ্কের এই বন্ড ইস্যু করেছে দ্য স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া। ২০১৮ সালে ছয় দফায় ১ হাজার ৫৭ কোটি রুপির বন্ড বিক্রি হয়েছিল। তথ্য প্রাপ্তির অধিকার আইনে ব্যাংকগুলোর ইস্যু করা ইলেক্টোরাল বন্ডের সংখ্যা জানতে চাওয়া হলে এমন তথ্য পাওয়া পায় বলে জানিয়েছে স্ক্রলডটইন।

রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে কোনো ব্যক্তি বা করপোরেট প্রতিষ্ঠান স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া থেকে ইলেক্টোরাল বন্ড কিনতে পারে। বন্ড কেনার পরই কেবল ওই অর্থ রাজনৈতিক দল নগদ অর্থে রূপান্তরিত করতে পারে। ভারতে প্রথম ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ইলেক্টোরাল বন্ডের সূচনা হয়। পুনের বাসিন্দা বিহার দুর্বে ২০১৮ ও ’১৯ সালে ভারতের উল্লেখযোগ্য শহরগুলোতে ইলেক্টোরাল বন্ড বিক্রির তথ্য জানতে চান সরকারের নির্দিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ বরাবর। ২০১৮ সালের মার্চ, এপ্রিল, মে, জুলাই, অক্টোবর ও নভেম্বরে ছয় দফায় ইলেক্টোরাল বন্ধ ইস্যু করা হয়। এরপর ২০১৯ সালে জানুয়ারি ও মার্চ মাসে দুই দফায় ইস্যু করা হয়।

মুম্বাইয়ে ২০১৮ সালে ৩৮২ দশমিক ৭০ কোটি এবং ২০১৯ সালে ৪৯৫ দশমিক ৬০ কোটি রুপি মূল্যমানের বন্ড বিক্রি হয়। রাজধানী দিল্লিতে ২০১৮ সালে ১৪৭ দশমিক শূন্য ৬ কোটি এবং ২০১৯ সালে ২০৫ দশমিক ৯২ কোটি রুপির ইলেক্টোরাল বন্ড বিক্রি হয়েছে এরই মধ্যে।

দুর্বে সাংবাদিকদের জানান, সরকার ভুয়া আশঙ্কায় এই ব্যবস্থা চালু করেছে। অর্থদাতাদের নাম যেন প্রকাশ্যে আসতে না পারে এবং তাদের যাতে কোনো পক্ষ ব্ল্যাকমেইল করতে না পারে তাই এই বন্ড বাজারে ছাড়া হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অর্থদাতাদের কোনো ব্ল্যাকমেইল বা হুমকির ভয় নেই।

গত মার্চের ২৭ তারিখ নির্বাচন কমিশন সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দেয় যেখানে বলা হয়, ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে পার্টিকে অর্থায়নের ফলে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার রাজনৈতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে অস্বচ্ছতার অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। এতদিন পর্যন্ত নির্বাচনের সময় পার্টিগুলোকে দান হিসেবে দেওয়া অর্থের হিসাব নির্বাচন কমিশনকে দিতে হতো। কিন্তু নতুন এই ব্যবস্থায় নির্বাচন কমিশনের কাছে শুধু বন্ডের হিসাব থাকে, পেছন থেকে কে বা কারা এই অর্থ দিচ্ছে তার কোনো হিসাব থাকে না। ফলে এবারের নির্বাচনে দানকৃত অর্থ কালো টাকার মালিকরাই দিচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গত মার্চে সুপ্রিম কোর্টকে বলা হয়েছিল যে, অর্থায়ন এবং দানের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের জন্যই এই ইলেক্টোরাল বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এ নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার রায় দেবে বলে জানা যায়।