অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গতকাল সোমবার ঢাকা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস, ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুদক জানায়, ভূমি রেকর্ড সংশোধনের জন্য ঘুষ দাবির অভিযোগে ঢাকা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে অভিযান চালানো হয়। দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে আসা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সহকারী পরিচালক জাহিদ কালামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের দল এ অভিযান চালায়।
তিনি জানান, দুদক দল ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অভিযোগের বিষয়ে অবহিত করলে জানানো হয়, ভূমি রেকর্ড-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন হচ্ছে। সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগ যথাসম্ভব আমলে আনা হচ্ছে বলেও তাদের নিশ্চিত করা হয়। দুদক টিম সিটিজেন চার্টার স্থাপনসহ সেবা প্রদানে সিস্টেম উন্নয়নে বেশ কিছু পরামর্শ দেয়।
গতকাল দুদক ময়মনসিংহ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রামপ্রসাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম পিডিবি অফিসে অভিযান চালায়। অভিযানকালে দেখা গেছে, মিটার রিডাররা যথাসময়ে বিল প্রস্তুত না করে এককালীন দুই বা ততোধিক মাসের বিল প্রস্তুত করছে, ফলে গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দুদক টিমের পর্যবেক্ষণকে আমলে এনে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ পিডিবির ময়মনসিংহ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ (দক্ষিণ)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া টিমের পাওয়া প্রতিবেদনটি দুদকে উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্যের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালিয়েছে দুদক কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের দুই সদস্যের এনফোর্সমেন্ট টিম। তাদের উপস্থিতি আঁচ করতে পেরে দালালরা পালিয়ে যায়। টিম উপস্থিত সেবাপ্রত্যাশীদের অভিযোগগুলো লিপিবদ্ধ করে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মো. জামাল হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
সেবাগ্রহীতারা দুদকের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সাগর মল্লিক নামে একজন বলেন, ‘এভাবে প্রতিনিয়ত অভিযান চালালে এই অফিসগুলোতে গিয়ে হেনস্তা হতে হবে না।’