আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে সংগঠনটি সব ক্ষেত্রে করপোরেট করহার অন্তত ৫ শতাংশ হারে কমানোর সুপারিশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রাজস্ব ভবন সম্মেলন কক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর এ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়ার সভাপতিত্বে বাজেট আলোচনায় এনবিআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ওসামা তাসীর বলেন, ২০১৫-১৬ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা আড়াই লাখ টাকা রয়েছে। অথচ এ সময় মোট মূল্যস্ফীতি ২২ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়েছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় করমুক্ত আয়ের সর্বোচ্চ সীমা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেন তিনি।
নিট সম্পদ মূল্য ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত শূন্য সারচার্জ এবং পাঁচ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত ১০ শতাংশ সারচার্জ আরোপের প্রস্তাব দেন ওসামা তাসীর। পাশাপাশি করজাল সম্প্রসারণ ও করপোরেট ডিভিডেন্ডের আয়ে বিদ্যমান ২০ শতাংশ করের পরিবর্তে ১০ শতাংশ কর নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। ডিসিসিআই আগামী বাজেটে প্যাকেজ ভ্যাট বহাল রাখা এবং বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকার ঊর্ধ্ব থেকে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্যাকেজ ভ্যাট প্রদানের সীমা হিসেবে নির্ধারণের প্রস্তাব দেয়। এর জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেট ব্যবসাবান্ধব হবে। এতে উৎপাদন ও শিল্পায়নের গতি বাড়বে। তিনি বলেন, আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে। ব্যবসা পরিবেশের উন্নতি ঘটে, এমন উদ্যোগ থাকবে সেখানে।
করজাল সম্প্রসারণ নিয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘নতুন করদাতা তৈরির মাধ্যমে নিয়মিতদের ওপর চাপ কমাতে চাই। এর জন্য সারা দেশে কর জরিপ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে অনেক ব্যবসায়ী বা বড় আয়ের মানুষ আছেন, যারা কর দিচ্ছেন না। তাদেরর করজালভুক্ত করতে উপজেলা পর্যায়ে জরিপ চালানো হচ্ছে।’