পুঁজিবাজারে এসএমই প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহী করতে স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলোকে করছাড়ের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এসব কোম্পানির লেনদেনে বিদ্যমান উৎসে করও কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমন দাবি জানিয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করহারের পার্থক্য বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এনবিআরের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নেয় স্টক এক্সচেঞ্জ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও মার্চেন্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা। সব বৈঠকের বিভিন্ন ক্ষেত্রে করহার কমানোর দাবি জানানো হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে এনবিআরের সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, সরকারের দিক থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর চাপ আছে। এ জন্য করের আওতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এনবিআর। ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়লে কর আদায়ও বাড়বেÑএ বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই করনীতি করা হয়। তিনি বলেন, বাস্তব কারণে করহার কমানোর সব দাবি মানা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, বীমা পলিসি করার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) গ্রহণ নিশ্চিত করতে শিগগিরই বীমা কোম্পানিগুলোকে চিঠি পাঠানো হবে। পর্যায়ক্রমে অন্য সব সেবা গ্রহণে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রাক-বাজেট আলোচনায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এমডি মাজেদুর রহমান বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই শেয়ার লেনদেনে বিদ্যমান উৎসে কর শূন্য দশমিক ০৫ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য দশমিক ০১৫ শতাংশ করার দাবি জানান। এ ছাড়া এসএমই কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেনের জন্য যে নতুন বাজার হতে যাচ্ছে, সেখানে শেয়ার লেনদেনে তিন বছর কর অব্যাহতি দেওয়ার দাবি করেন।
সিএসইর এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, এসএমই কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করতে প্রথম তিন বছর কর অব্যাহতি দিতে হবে। এ ছাড়া বন্ড লেনদেনের ওপর কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ বন্ড বাজার সৃষ্টিতে এর লেনদেনের ওপর কর অব্যাহতি চেয়েছে। তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট আয়কর হারের পার্থক্য শতকরা ১০-এর পরিবর্তে শতকরা ২০ এ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে বহুজাতিক ও স্থানীয় ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলো এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত হবে। এতে আমাদের দেশে ও পুঁজিবাজারে অধিক পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে। এনবিআরের সঙ্গে বৈঠকে স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর বিদ্যমান কর হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা, নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আয় তিন বছর করমুক্ত রাখা, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এসএমই প্রথম তিন বছর শূন্য শতাংশ এবং পরবর্তী বছরে ১০ শতাংশ হারে করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া করমুক্ত লভ্যাংশের সীমা ২৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা করা ও লভ্যাংশ আয়ের ওপর দ্বৈতকর মওকুফের দাবি জানানো হয়। বন্ড লেনদেনে কর অব্যাহতির একই দাবি জানিয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বিএলএফসিএ। সংগঠনটির পক্ষে আইডিএলসির কর্মকর্তা জোবায়ের রহমান খান বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তহবিল ব্যয় বেশি হয় বলেই এসএমই কোম্পানিগুলোকে ১৪ শতাংশের নিচে ঋণ দিতে পারছে না। কার্যকর বন্ড বাজার সৃষ্টি হলে অপেক্ষাকৃত কম সুদে অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তখন কম সুদে ঋণ দেওয়া যাবে। বীমা কোম্পানিগুলোর সংগঠন বিআইএ পুনঃবীমা পলিসির ওপর কর প্রত্যাহারের দাবি জানায়। বীমা সার্ভেয়ার অ্যাসোসিয়েশন কমিশনের ওপর কর ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমান করহার নির্ধারণের দাবি জানায়। মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে বিদ্যমান করপোরেট ট্যাক্সের হার মার্চেন্ট ব্যাংক ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ব্রোকারেজ হাউস ৩৫ শতাংশ ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ১৫ শতাংশ, যা অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিদ্যমান করপোরেট করহারে এই অসমতা দূর করার দাবি জানান তারা।