আঙ্কটাড প্রতিবেদন

জাতিসংঘ ই-বাণিজ্যে বাংলাদেশের সম্ভাবনা দেখছে

বাংলাদেশের ডিজিটালাইজেশনের ভিত্তিকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ আখ্যা দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড। তাদের পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এমন ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণে সমর্থ হয়েছে, যার ভিত্তিতে চাইলে ভবিষ্যতে ইন্টারনেটভিত্তিক বাণিজ্যকে একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে দাঁড় করানো সম্ভব হবে। তবে এখনো দেশটি সমন্বিতভাবে জাতীয় ই-কমার্স কৌশল  প্রণয়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে ডিজিটালকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সরকারি-বেসরকারি সংলাপ পরিচালনা ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যে ভূমিকা নিয়েছে, তা ‘দৃষ্টান্তমূলক’। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) খাতে বছরে গড়ে ৪০ শতাংশ সমৃদ্ধি হয়েছে। একে উল্লেখযোগ্য অর্জন আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

আঙ্কটাডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশের ১১ কোটিই তরুণ, যাদের চাকরি ও ভবিষ্যৎ দক্ষতা তৈরি করা প্রয়োজন। তাদের জন্য প্রযুক্তি খাত জরুরি। এতে আরও বলা হয়, সমন্বিত জাতীয় কৌশলের অংশ হিসেবে ই-বাণিজ্যের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে তাতে ই-বাণিজ্যের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে। নগর ও গ্রাম এলাকার মধ্যে ডিজিটাল ব্যবধান মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

আঙ্কটাডের প্রযুক্তি ও লজিস্টিকসবিষয়ক বিভাগের পরিচালক শামিকা এন. সিরিমান বলেন, ‘ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য তৈরি হতে বাংলাদেশ যে বড় পদক্ষেপগুলো নিয়েছে, তা দেখে খুব দারুণ লেগেছে।’

ই-বাণিজ্যের আশাবাদকে জিইয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে উন্নয়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। এর মধ্যে রয়েছে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর অগ্রগতি, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থায়নের মতো বিষয়গুলো।

এবার পঞ্চমবারের মতো আয়োজিত ই-বাণিজ্য সপ্তাহে বাংলাদেশের অগ্রগতিবিষয়ক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংস্থাটি ১৭টি উন্নয়নশীল দেশের ওপর মূল্যায়ন উপস্থাপন করেছে। ই-বাণিজ্যে ভূমিকা পালনকারী উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক ব্যক্তিদের নিয়ে ১ এপ্রিল থেকে এবারের সম্মেলন শুরু হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত তা চলবে। এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘সকল বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড এবং বিদ্যমান সব ব্যবসায়িক আইন, বিধিনিষেধ ও নীতিমালাগুলোকে ডিজিটাল বাণিজ্যিক বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তৈরি করা হবে।’