পহেলা বৈশাখ থেকে রাজশাহী ঢাকা সরাসরি ট্রেন

রাজশাহী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ প্রত্যাশিত রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন চালু হচ্ছে। এই পথে নতুন এ সেবা চালুর জন্য রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের কর্মকর্তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আসছে পহেলা বৈশাখ থেকেই এই ট্রেনটি চালু হবে বলে রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ট্রেনটি চালু হলে রেলপথে রাজশাহী থেকে ঢাকা যেতে বা আসতে আগের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় কম লাগবে।

রাজশাহী-ঢাকা রুটে বর্তমানে সকাল, বিকেল এবং রাতে তিনটি ট্রেন চলাচল করে। এর সবগুলোতেই থাকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। এসব ট্রেনের টিকিট পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। এই ট্রেনগুলো রাজশাহী-ঢাকার মধ্যে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি এবং যাত্রী ওঠানামা করে। এতে ঢাকা যেতে সময় লাগে ছয় থেকে সাড়ে ছয় ঘণ্টা। বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে রাজধানী ঢাকায় কম সময়ে যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সরাসরি ট্রেন চালুর দাবি উঠে আসছিল। বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনের       আগে প্রার্থীরাও এই ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে বর্তমান মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জমান লিটনও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে সরাসরি এই ট্রেন চালুর ব্যবস্থা করবেন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার কাছে ওই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান। এরই ধারাবাহিকতায় মেয়র লিটন এই ট্রেন চালুর প্রচেষ্টা শুরু করেন। এখন সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বে থাকা স্পেশাল সুপারিনটেনডেন্ট আমজাদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই ট্রেনটি আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে চালুর চেষ্টা চলছে। নতুন এই ট্রেনটি এক দিন বিরতি দিয়ে সপ্তাহের বাকি ছয় দিনই চলাচল করবে। এটি চালু হলে যাত্রীদের টিকিটের যে বাড়তি চাহিদা রয়েছে তার অনেকটাই পূরণ হবে।’

নতুন এই ট্রেন চালুর বিষয়ে বেশ কিছু খসড়া প্রস্তাবনা রেলওয়ে সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে জানিয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এসব প্রস্তাবনা অনুযায়ী বিরতিহীন ট্রেনটি ঢাকা যেতে সময় লাগবে ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট। আর ঢাকা থেকে রাজশাহী আসতে সময় ধরা হয়েছে ৫ ঘণ্টা। প্রতিদিন সকাল সাতটায় রাজশাহী থেকে ছেড়ে ট্রেনটি ঢাকায় পৌঁছাবে বেলা ১১টায়। ঢাকা থেকে দুপুর একটায় রওনা হয়ে রাজশাহী পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়।’

আমজাদ হোসেন আরও জানান, বিরতিহীন ট্রেনটি যাত্রাপথে কোনো স্টেশনে থামবে না। শুধু বঙ্গবন্ধু সেতুতে ওঠার আগে ট্রেনটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কিছু সময় বিরতি নিলেও সেখানে কোনো যাত্রী ওঠানো হবে না। এই ট্রেনে চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন কোচ এবং চারটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার ও চারটি সাধারণ চেয়ার কোচ থাকবে। প্রতিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিন কোচে থাকবে ৪৮টি আসন, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার কোচে থাকবে ৮০টি করে আসন এবং প্রতিটি সাধারণ কোচে থাকবে ১০৫টি করে আসন। ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলাচলকারী অন্য ট্রেনের চেয়ে ১০ ভাগ বাড়তি ভাড়া রাখা হবে এই ট্রেনে।

এদিকে এই ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা।