গত রাজবাড়ী জেলা সদরের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নে উদ্ধার হওয়া ভিজিএফ’র তিন হাজার সাত শ কেজি চাল নিয়ে বিপদে আছেন আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ ভুইয়া।
অযত্ন-অবহেলায় জিম্মায় রাখা ওই চাল যাচ্ছে পোকার পেটে। এ নিয়ে মামলা দায়ের হলেও মামলার তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দীর্ঘ ছয় মাসেও তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেনি।
সরেজমিনে পরিদর্শনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শহিদ ওহাবপুর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাসিন্দা জেলা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ভুইয়া জানান, গত ঈদ-উল-ফিতরের সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডল ভিজিএফ’র ওই চালগুলো তছরুপ করে গোপনে বিক্রির চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন চালগুলো উদ্ধার করে। উদ্ধার চালগুলো তার বাড়ির একটি কক্ষে নিজ জিম্মায় রাখে প্রশাসন।
তিনি জানান, এই চাল নিয়ে তিনি এখন মহা বিড়ম্বনায়। এই চালের বস্তাগুলো পোকায় আক্রান্ত। ফলে পুরো বাড়ি ছেয়ে গেছে লাখো পোকায়। এই পোকার অত্যাচারে বাড়িতে একদণ্ড অবস্থান করা যায় না। সারাক্ষণ পোকাগুলো উড়ে বেড়ায়।
তিনি আরো জানান, এই পোকাগুলো এতটা বিষাক্ত যে এগুলো খেয়ে ইতিমধ্যে তার বাড়ির আটটি মুরগি মারা গেছে। পোকাগুলো পাশের বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে। তিনি এই চালের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ এবং পরিস্থিতি জানিয়ে চিঠিও দিয়েছেন। তবে কাজের কাজ কিছু হয়নি।
জানা গেছে, রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২০১৮ সালের শহীদ ওহাবপুর ইউনিয়নের মমিন বাজার এলাকার জনৈক মনো মিয়ার হলুদের মিলের একটি ঘরের মধ্যে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত খালি বস্তা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ ছাড়া একই ঘরের মধ্যে স্তূপ আকারে চাল ফেলে রাখতে দেখে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে যান এবং তিনি খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত তিন হাজার সাত শ কেজি চাল জব্দ করেন। পরবর্তীতে ওই চাল জেলা পরিষদের সদস্য নুর মোহাম্মদ ভুইয়ার বাড়ির একটি কক্ষে সিলগালা করে রাখা হয়।
ওই ঘটনায় সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এসএম মনোয়ার মাহমুদ বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় স্থানীয় সাদিপুর গ্রামের এবং শহিদ ওহাবপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তোরাপ আলী মন্ডল, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রামপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলী এবং একই গ্রামের মোনো মিয়া ঢালীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার ৩ নম্বর আসামি মোনা মিয়া ঢালীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিসহ অন্য দুজন বর্তমানে জামিনে রয়েছে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান খান জানান, সদর থানা পুলিশ প্রথম দিকে ওই মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তা দুর্নীতি দমন কার্যালয় (দুদক) ফরিদপুরের হাতে ন্যস্ত করা হয়।
এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ফরিদপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কমলেশ মন্ডল জানান, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে তিনি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করেন। এখনো মামলাটির তদন্ত চলছে। এরই মাঝে আদালতের কাছে জব্দকৃত ওই চাল বিক্রির অনুমতি চাওয়া হয়েছে। আদালত অনুমতি দিলে তা বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।