গ্রামীণফোনের কাছে বকেয়া সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা

দেশের শীর্ষ অপারেটর গ্রামীণফোনের কাছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা দাবি করে চিঠি পাঠিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ও এর সুদ মিলিয়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি, যা মঙ্গলবার এক চিঠির মাধ্যমে পাওনা পরিশোধে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বিটিআরসির নিরীক্ষা (অডিট) অনুযায়ী, ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোনের কাছে পাওনা রয়েছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিটিআরসির পাওনা ৮ হাজার ৪৯৪ কোটি ১ লাখ টাকা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) পাওনা ৪ হাজার ৮৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। নিয়োগকৃত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ও সর্বশেষ বিটিআরসি কমিশন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পাওনা টাকা চেয়ে  গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে (সিইও) চিঠি দেওয়া হয়েছে।

বিটিআরসির কর্মকর্তারা জানান, দাবি করা অর্থ অনেক পুরনো। বিটিআরসির মূল পাওনা ছিল প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। সুদ বেড়ে এখন এত বিশাল অঙ্কের টাকা হয়েছে। পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য গ্রামীণফোনকে দুই সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বিটিআরসির পাওনা দাবির সঙ্গে একমত নয় বলে গ্রামীণফোন জানিয়েছে। গ্রামীণফোন একটি স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান ও আইন মেনে চলছে উল্লেখ করে গতকাল প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে গ্রামীণফোনের কাছে বকেয়া সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা জানায়, ‘বিটিআরসি যে অর্থ দাবি করেছে, গ্রামীণফোন তার সঙ্গে একমত নয়। বিটিআরসির সঙ্গে অনেকবার মিথস্ক্রিয়া ও নিরীক্ষকদের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা বাড়ানো সত্ত্বেও, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, এই নিরীক্ষায় তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়নি।’

নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল দাবি করে গ্রামীণফোন জানায়, ‘সমগ্র নিরীক্ষা কার্যপ্রণালীতে ত্রুটি রয়েছে। সেখানে তাদের পর্যবেক্ষণ আমলে নেওয়া হয়নি। এখন সঠিক পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য তারা নিজেরাই একটি নিরীক্ষা করবে।’

নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাওনা টাকা চেয়ে গ্রামীণফোনের কাছে গত বছর চিঠি দেয় বিটিআরসি, যা পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানায় গ্রামীণফোন। নিরীক্ষা প্রতিবেদনটি পুনর্মূল্যায়ন করে পুনরায় চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বিটিআরসির পুনর্মূল্যায়নেও আপত্তি রয়েছে গ্রামীণফোনের।

গ্রামীণফোনের ব্যবসা শুরুর পর থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমদানি যন্ত্রপাতির দাম যাচাই করে দেখতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেয় বিটিআরসি। এছাড়া অপারেটরের দেওয়া প্রকৃত রাজস্বের হিসাব ঠিক আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে বিটিআরসি ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা। অপারেটরটির আর্থিক প্রতিবেদনও যাচাই করে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। ২০১১ সালে দেশীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিরীক্ষা করানোয় গ্রামীণফোন তাতে আপত্তি জানিয়ে আদালতে গেলে, তা স্থগিত হয়ে যায়। সে সময় নিরীক্ষার পর গ্রামীণফোনের কাছে ৩ হাজার ৩৪ কোটি টাকা দাবি করে চিঠি দেয় বিটিআরসি। পরবর্তীকালে ২০১৫ সালেও নতুনভাবে নিরীক্ষা (ইনফরমেশন সিস্টেম অডিট) করতে একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয় বিটিআরসি।