লোকসভা নির্বাচনের ঠিক পাঁচ দিন আগে আগামী শনিবার এক কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে অযোধ্যার বিতর্কিত মন্দির ইস্যুতে রাস্তায় নামাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জোটভুক্ত হিন্দুত্ববাদী দলগুলো। বাবরি মসজিদের ধ্বংসস্তূপের ওপর রামমন্দির নির্মাণের আওয়াজ তোলা হবে ওই জমায়েত থেকে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টরপন্থি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বলছে, তারা এপ্রিলের ৬ তারিখ প্রায় এক কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের দাবি জানাবে। কিন্তু বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারে বাবরি মসজিদ বা রামমন্দির নিয়ে কোনো সরাসরি প্রতিশ্রুতি না থাকলেও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাবরি মসজিদ ইস্যুকে নির্বাচনে জেতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছেন মোদি।
১৯৯০ সাল থেকেই বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে কথা বলছে বিজেপি। বিগত কয়েকটি নির্বাচনের ইশতেহারে রামমন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল দলটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রতিশ্রুতি বিজেপিকে ভারতের কিছু অঞ্চলে ভোট পেতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বিগত সময়ে।
যদিও বিজেপি এবং তার জোটসঙ্গীরা ভালো করেই জানেন যে মন্দির ইস্যু এতটাই গরম যে তা নিয়ে খেলতে গেলে হাত পুড়ে যাবার ভয় আছে। বিশেষ করে, যখন ভারতীয় জনতা পার্টি রাষ্ট্রক্ষমতায়। বিজেপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, রামমন্দির ইস্যু ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং ধর্মীয় দাঙ্গার সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর ক্ষমতাকে আমরা এড়িয়ে যেতে পারি না। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো ব্যাপার হবে এই ইস্যুকে প্রজ¦ালন না করা।’
বিজেপির ওই জ্যেষ্ঠ নেতা এবং আরও দুজন নেতা ও মন্ত্রিসভার দুই মন্ত্রী বলেন, তারা মন্দির ইস্যুকে সামনে আসতে দিতে চান না বৃহত্তর ধর্মীয় এবং সংস্কৃতিগত পার্থক্যের বিষয় মাথায় রেখে। এ বিষয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা খুব বেশি কথা বলতে চান না।
গত জানুয়ারিতে বিজেপির জোটভুক্ত সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) অযোধ্যায় মন্দির ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে আসতে চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করে। তখন বিজেপির নেতাদের সঙ্গে ওই পরিষদের একটি সভা হয়। ওই সভায় কী আলোচনা হয়েছিল তা প্রকাশ হয়নি।
ভিএইচপির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট অলক কুমার বলেন, ‘এই ইস্যুতে আমরা বদ্ধপরিকর। কারণ প্রত্যেক হিন্দুর হৃদয়ে এই দাবি আছে। তবে এখনই সঠিক সময় নয় মন্দির ইস্যু নিয়ে সামনে আসার। সবকিছুর রাজনৈতিকীকরণ বিতর্কের জন্ম দেয়।’
তবে অলক কুমার এমন বক্তব্য দিলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে ৬ তারিখের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য লিফলেট ছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আহ্বান জানানো হচ্ছে। প্রচারিত লিফলেটে বলা হচ্ছে, রামমন্দির নির্মাণের দাবি তুলুন সবাই।
১৫২৮ সালে নির্মিত বাবরি মসজিদ ১৯৯২ সালে একদল উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভেঙে দেয়। এরপর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কমপক্ষে ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ১৯৪৭ সাল-পরবর্তী ভারতে এটা ছিল সবচেয়ে বড় ঘটনা।