বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্কবার্তা জঙ্গিদের ফিরে আসার চেষ্টা

বিভিন্ন দেশে সশস্ত্র সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে কাজ করা বাংলাদেশি বা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকরা দেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ। তাদের প্রবেশ ঠেকাতে দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সীমান্তে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

সম্প্রতি দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য এসেছে বিভিন্ন দেশে পালিয়ে থাকা জঙ্গিরা দেশে আসার চেষ্টা করছে। সম্প্রতি আইএসের পতন হয়েছে। সংগঠনটির অনেক সদস্য দেশে আসার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ কারণে বিমানবন্দর ও সীমান্ত এলাকায় সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক জঙ্গি, যাদের আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। কিন্তু তারা আসলে আমাদের নাগরিক নয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্য কোনো দেশের নাগরিক। তাদের বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না। দেশকে জঙ্গিমুক্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পর তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হয়েছে সবাই। এখন জঙ্গি সংগঠনগুলো কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। তারপরও আমরা সতর্ক আছি।’

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) দাবি করে, সিরিয়ার বাঘুসে পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে আইএসের পাঁচ বছরের স্বঘোষিত খিলাফতের অবসান হয়েছে। এটি ছিল সংগঠনটির দখলে থাকা সর্বশেষ ঘাঁটি। ইরাকে আগেই নিজেদের সব ঘাঁটি হারিয়েছে আইএস। ২০১৪ সালে ইরাকে আইএসের খিলাফতের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। তবে সিরিয়া ও ইরাকের বিভিন্ন জায়গায় এখনো তাদের যোদ্ধারা রয়েছে বলে জানায় বিবিসি।

এদিকে আইএসে যোগ দিয়ে সিরিয়ায় যাওয়া ‘জিহাদি-বধূ’ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক শামীমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাজ্য। এর আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শামীমা বলেছিলেন, তিনি শুধু যুক্তরাজ্যেরই নাগরিক এবং সেখানেই ফিরতে চান। তার মায়ের জন্ম বাংলাদেশে হলেও শামীমার এ দেশের নাগরিকত্ব নেই। তিনি বলেন, ‘আমার জন্ম বাংলাদেশে না। আমি বাংলাদেশ কখনো দেখিনি। এমনকি আমি ঠিকমতো বাংলায় কথাও বলতে পারি না।’