ছোট ও বড় পর্দার ব্যস্ত অভিনেত্রী সুষমা সরকার। মঞ্চেও নিয়মিত অভিনয় করছেন। বৈশাখী টেলিভিশনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তার অভিনীত শিশু-কিশোরদের নিয়ে নির্মিত ধারাবাহিক নাটক ‘হ্যাপী লজ’। সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে
আজকের শ্যুটিং...
শ্যুটিং তো প্রতিদিনই করি। কিন্তু সব দিন একই রকম ভালোলাগা কাজ করে না। ইদানীং খুব কম কাজ পাই, যা মন থেকে করতে ইচ্ছা করে। আজকের শ্যুটিংটি ঠিক তেমনি। আজ আমি বিটিভির জন্য নির্মিত একটি খন্ড নাটকের শ্যুটিং করছি। তবে এটির বিশেষত্ব হলো- এটি সেলিম আল দীন রচিত কালজয়ী নাটক ‘ছায়া শিকারী’র রিমেক। তখন এই নাটকটি বিটিভির জন্য ধারাবাহিক নাটক আকারে নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু এবার খ- নাটক হিসেবে তৈরি করছেন মাহবুবা ফেরদৌস। আমি শম্পা রেজা অভিনীত চরিত্রটি করছি। সেলিম স্যার এই চরিত্রটি শম্পা রেজাকে দেখেই লিখেছিলেন যে, মেয়েটি বিদেশ থেকে আসে। কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। তার কথা বলা, হাঁটা-চলা সবই অন্য রকম। আমি খুব আনন্দিত আবার ভয়েও আছি। কারণ একটু এদিক ওদিক হলেই দর্শক তুলনা শুরু করবেন।
স্মরণে সেলিম আল দীন...
আমি তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ছাত্রী। ফলে সেলিম আল দীনকে সরাসরি শিক্ষক হিসোবে পাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে। অনার্স প্রথম বর্ষেই তার বিখ্যাত ‘বনপাংশুল’ নাটকের সুকি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাই। তখন তো অভিনয়ের কিছু বুঝি না। পরে জানতে পারি, এই চরিত্রটি ঢাকা থিয়েটার প্রযোজনায় মঞ্চকুসুম শিমূল ইউসুফ করেছিলেন। তাই শুনে খুব ভয় পেয়েছিলাম, আমি না জেনে কী অভিনয় করেছি! যাই হোক, পরেও সেলিম স্যারের নির্দেশনায় মঞ্চে অভিনয় করেছি। কিন্তু টিভিতে তার কাজ করার আগেই তিনি বড় অকালে চলে গেলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে ‘ছায়া শিকারী’র রিমেকে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে।
শিশু-কিশোরদের ধারাবাহিক ‘হ্যাপী লজ’...
বৈশাখী টিভিতে আজ থেকে প্রতি শুক্র ও শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় প্রচার হবে এটি। সাঈদ রিংকুর পরিচালনায় এ নাটকের কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন আলমগীর কবির। এখন তো নাটকের স্ক্রিপ্টই পাই না, কিন্তু অনেকদিন পর দুর্দান্ত একটি স্ক্রিপ্টে কাজ করেছি। অনেক আগেই আমাকে গল্প পাঠানো হয়। তা দেখেই বুঝতে পারি কাহিনী এমনভাবে বোনা যে একটি সিন ফেলে দিলেই নাটকের গল্পই হারিয়ে যাবে। তা ছাড়া শিশু-কিশোরদের নিয়ে তো কাজই হয় না। সেখানে বড় একটি ধারাবাহিক হয়েছে, সেটা আশার কথা। এ নাটকে আমার চরিত্রটি খুব মজার। আমার মধ্যে অশুভ আত্মা ভর করে, ফলে কখনো আমি স্বাভাবিক ভালো মানুষ আবার কখনো খুব ভয়ংকর হয়ে উঠি। আমার সহশিল্পী ইন্তেখাব দিনার। তার সঙ্গে কাজ করতে সব সময় ভালো লাগে।