মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে

ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী করতে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণে নেওয়া হচ্ছে আলাদা প্রকল্প। এতে ব্যয় হবে ৯১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ভারতের লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে ৯১৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। বাকি ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে প্রকল্পটি।  

এর আগে এই প্রকল্পের জন্য ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণে ব্যয় হয়েছে ৮৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। এখন অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রকল্পটি নিয়ে গত বছরের ৭ মে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ প্রতিপালন করায় বর্তমানে একনেক সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে চলতি বছর  থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন  চৌধুরী বলেন, ভারতীয় এলওসি ঋণ প্রকল্পে এটি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই প্রকল্পের অধীনে ভারতের এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংকের ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে এটির অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানো হয়। এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের আওতায় ১৫২ লাখ হেক্টর ভূমির উন্নয়ন, পানি সরবরাহ ও নিষ্কাশনে ফেনী নদী থেকে ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপন, সংযোগ সড়ক ১০ কিলোমিটার, পাম্প স্টেশন, পানি সংরক্ষণাগার, সীমানা প্রাচীর ৫ হাজার মিটার, প্রশাসনিক ভবন, নিরাপত্তা স্টেজ ও টেলিকমিউনিকেশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। এছাড়া ১১ জন আন্তর্জাতিক ও ২৪ জন স্থানীয় পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেন, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপিত হলে ওই এলাকায় শিল্পোৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। এতে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এছাড়া রাজধানী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর অভিমুখে জীবিকার অন্বেষণে জনসাধারণের অভিবাসন প্রক্রিয়া কমে যাবে। দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ সুষম উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দেশে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে স্থানীয় এবং  বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশেষ এ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের মাধ্যমে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ সম্ভব হবে। তাদের বিনিয়োগ বাড়বে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার উপার্জন বৃদ্ধি এবং দেশে ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ ঘটবে। এছাড়া উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ে তোলা যাবে বলেও মনে করেন তিনি। দেশের সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বেজার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ বছরে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের জুনে মোট ৭৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছেÑ যার মধ্যে ৫৬টি সরকারিভাবে এবং অবশিষ্ট ২৩টি বেসরকারিভাবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।