রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারসংলগ্ন কাঁচাবাজারে গত বুধবার রাত ৩টার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পাশের হকার্স মার্কেট, উত্তরা মার্কেট ও ঢাকা সিটি করপোরেশন মার্কেটের ৩০ দোকান পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট আড়াই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
দেবাশীষ বর্ধন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ১৬টি ইউনিট গিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। অগ্নিকাণ্ডে ২৫ থেকে ৩০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দোকানদাররা জানান, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়রা আগুন নেভাতে সহায়তা করছেন। আশপাশের বিভিন্ন মসজিদ থেকে পানির সংযোগ নিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে তারা দোকানে নতুন নতুন শাড়ি ও লুঙ্গিসহ বিভিন্ন মালামাল তুলেছিলেন। আগুনে সব পুড়ে গেছে। আগুনে কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীর কয়েক কোটি টাকার মালামাল ছাই হয়েছে। খিলগাঁও রেললাইন সংলগ্ন কাঁচাবাজারের পাশেই হকার্স মার্কেট। এ মার্কেটের কোনো একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে দাবি করেন বেশ কয়েকজন।
ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, খিলগাঁও সবজি বাজারসহ এখানে ১৩৫০টি দোকান আছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া দোকান মালিকদের মধ্যে কারও ৫০ লাখ, কারও ১০ থেকে ২০ লাখ আবার কারও ৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। দোকানদার সালাউদ্দিন বলেন, তিনি হার্ডওয়্যারের ব্যবসা করেন। দোকানে ১০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব পুড়ে গেছে। তার পাশের দোকানদার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমার ১২ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। কাপড় বিক্রেতা ফয়সাল বলেন, ‘রোজা ও ঈদকে সামনে রেখে নতুন নতুন শাড়ি ও লুঙ্গি তুলে দোকান সাজিয়েছিলাম। চোখের সামনে সব ছাই হয়েছে। আগুন দোকানের প্রায় ৫২ লাখ টাকার মালামাল কেড়ে নিয়েছে।’ আবুল কালাম মোল্লা নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আগুনে পুড়ে তার দোকানের ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’