গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব অন্যায় ও অযৌক্তিক

‘আইন ভেঙে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু’ এই শিরোনামে গত ১৩ মার্চ দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় লিড নিউজ হয়। পরবর্তী সময়ে প্রায় সবগুলো ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টেড সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে কমবেশি এই একই বক্তব্য আসে। ১৪ মার্চ গণশুনানি শেষ হয়। আইন ভেঙে এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে বিইআরসির এই শুনানি স্থগিতের আবেদনপত্র মাননীয় হাইকোর্ট ৩১ মার্চ নিষ্পত্তি করেন। গণশুনানি শেষ হলেও আবেদনপত্রটি খারিজ করেননি। আমলে নিয়েছেন। নথিভুক্ত করেছেন। সুতরাং ধারণা করা যায়, মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ও আপত্তি ভিত্তিহীন নয়।

উক্ত আবেদনপত্র নিষ্পত্তিকালীন শুনানিতে মাননীয় হাইকোর্ট বেশ কিছু অভিমত ব্যক্ত করেন। রিট মামলায় দুদককে পক্ষভুক্ত করতে বলেন। সেই সঙ্গে আরও বলেন, পেট্রোবাংলা ও তিতাস দুর্নীতিমুক্ত হলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির দরকার হয় না। বিইআরসি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ। এই বিবেচনায় বিইআরসি যেন গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রস্তাবের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ও আপত্তিগুলি নিষ্পত্তি করতে পারেÑ এমন অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। তবে কোনো অন্যায় ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু হলে তার প্রতিকারের সুযোগও হাইকোর্টের রয়েছে বলে মাননীয় হাইকোর্ট অভিমত ব্যক্ত করেন। ১৬.১০.২০১৮ তারিখে বিইআরসি এক আদেশে গ্যাসের মূল্যহার ৭.১৭ টাকা থেকে ৮.৬৩ টাকা বৃদ্ধি করে। তাতে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে ১.৪৬ টাকা ঘাটতি থাকে। ভর্তুকি (সরকারি অনুদান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিলের অর্থ) দ্বারা সে-ঘাটতি সমন্বয় করা হয়। আইনে এক অর্থবছরে একবারের বেশি মূল্যহার বৃদ্ধির সুযোগ না থাকলেও পরবর্তী সময়ে তিন মাসের মাথায় লাইসেন্সধারীগণ গ্যাসের মূল্যহার ৭.১৭ টাকা থেকে ১৪.৯১ টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব করে এবং ঘাটতিহার ৭.৭৪ টাকা ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি দ্বারা সমন্বয়ের প্রস্তাব করে। ফলে বিইআরসির ১৬.১০.২০১৮ তারিখের আদেশ খর্ব হয়।

সঞ্চালন ও বিতরণ মূল্যহার এবং পাইকারি গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবসমূহ বিইআরসি আইনের ৩২(৫) উপধারার সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। ফলে তা অযৌক্তিক। গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ উভয় প্রবিধানমালার ৫ ও ৬ প্রবিধান মতে, মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবসমূহ যৌক্তিক না হলে বিইআরসি গ্রহণ করতে পারে না। অথচ যৌক্তিক না হওয়া সত্ত্বেও বিইআরসি সেসব প্রস্তাব গ্রহণ করে। জরুরি বিজ্ঞপ্তি দেয় এবং গণশুনানি আহ্বান করে। চার দিনের মধ্যে সাতটি প্রস্তাবের ওপর দ্রুত গণশুনানি শেষ করে। তাতে বোঝা যায়, মূল্যবৃদ্ধির কত বড় তাগিদ রয়েছে। তাই ভোক্তারা মনে করে গণশুনানি এখন আর অর্থবহ নয়, বিইআরসিও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নয়। বিইআরসি আইনের ৩২(৫) উপ-ধারা : ‘কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত ট্যারিফ কোন অর্থবছরে একবারের বেশি পরিবর্তন করা যাইবে না, যদি না, জ্বালানী মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনরূপ পরিবর্তন ঘটে।’ জ্বালানি মূল্যের পরিবর্তনসহ অন্য কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। সুতরাং আইনের উক্ত বিধান মতে সঞ্চালন ও বিতরণ ট্যারিফ (মূল্যহার) এবং পাইকারি গ্যাসের মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবসমূহ যৌক্তিক নয় এবং অগ্রহণযোগ্য। তা ছাড়া আপ-স্ট্রিম তথা গ্যাসের পাইকারি মূল্যহার পুনর্নির্ধারণের এখতিয়ার সরকারের। অথচ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত দেশীয় গ্যাসের মূল্যহার বিবেচনায় না নিয়ে এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে সে-গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্য ধরে বিইআরসি পাইকারি মূল্যহার নির্ধারণ করে। তাতে সরকারের এখতিয়ার খর্ব হয়। আবার পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল-এর সার্ভিস চার্জহার নির্ধারণের প্রস্তাব গণশুনানিতে আনা হয়নি, বিইআরসি এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে নিজেই সে-চার্জ নির্ধারণ করেছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবসমূহ সামঞ্জস্যহীন এবং তা গ্রহণ বিইআরসির এখতিয়ার-বহির্ভূত।

জুন, ২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে প্রতীয়মান হয়, সঞ্চালনে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসে রাজস্ব ঘাটতি ০.১০ টাকা। তাতে সঞ্চালন মূল্যহার ০.১৫ টাকা থেকে ০.২৫ টাকা বৃদ্ধি করা ছিল যৌক্তিক ও ন্যায়সংগত। উক্ত গণশুনানিতে উপস্থাপিত বিইআরসির কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে নির্মাণাধীন ও অব্যবহৃত লাইনসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে সঞ্চালন মূল্যহার ০.৩৭ টাকা প্রস্তাব করা হয়। তাতে পক্ষজন প্রতিনিধিদের আপত্তি ছিল। অথচ সে-সঞ্চালন মূল্যহার ১৬.১০.২০১৮ তারিখের আদেশে বিইআরসি এখতিয়ার-বহির্ভূতভাবে ০.৪২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করে। ফলে গ্যাস সঞ্চালনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অযৌক্তিক ব্যয় বৃদ্ধি পায় ৪৮৯ কোটি টাকা। আবারও তিন মাসের ব্যবধানে সঞ্চালন মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব অন্যায় ও অযৌক্তিক। ভেড়ামারা-খুলনা পাইপলাইন শুরু থেকেই ব্যবহার হয় না। বিবিয়ানা-ধনুয়া সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা ৭০০ এমএমসিএফডি। ব্যবহার হয় ৩৫০-৪০০ এমএমসিএফডি। আশুগঞ্জ-বাখরাবাদ সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা ৬৫০ এমএমসিএফডি। ব্যবহার হয় ৩০০ এমএমসিএফডি। বাখরাবাদ-সিদ্ধিরগঞ্জ সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা ৭০০ এমএমসিএফডি। ব্যবহার হয় ৩৫০-৪০০ এমএমসিএফডি। বনপাড়া-ঈশ্বরদী-ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতা ৩০০ এমএমসিএফডি। ব্যবহার হয় ১০০ এমএমসিএফডি। আশুগঞ্জ গ্যাস কম্প্রেশর স্টেশনের ক্ষমতা ১৬০০ এমএমসিএফডি। চাহিদামতো গ্যাসপ্রবাহ না হওয়ায় এ ক্ষমতা আংশিক ব্যবহার হয়। এলেঙ্গা গ্যাস কম্প্রেশর স্টেশন কমই ব্যবহার হয়। এসব দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে গণশুনানিতে অভিযোগ আনা হয় এবং বলা হয়, গ্যাসের প্রাপ্যতা যাচাই ছাড়াই হাজার-হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দুর্নীতিপরায়ণ সিন্ডিকেটের ব্যবসা তৈরি করতে জিটিসিএলকে বাধ্য করা হয়েছে। নির্মাণাধীন ও পরিকল্পনাধীন পাইপলাইনের যৌক্তিকতা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। তা ছাড়া প্রতি কিলোমিটার লাইন নির্মাণ ব্যয় স্ট্যান্ডার্ড ব্যয়ের তুলনায় অনেক বেশি। ফলে সঞ্চালনে আর্থিক ঘাটতি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ বৃদ্ধি অযৌক্তিক। ফলে সঞ্চালন মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব অন্যায় ও অযৌক্তিক। তাই পক্ষজন প্রতিনিধি সমন¦য়ে গঠিত কমিটি দ্বারা এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য গণশুনানিতে প্রস্তাব করা হয়।

বিইআরসির ১৬.১০.২০১৯ তারিখের আদেশে ছয়টি গ্যাস বিতরণ কোম্পানির জন্য বিতরণ মূল্যহার এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যেন কর-পরবর্তী নির্ধারিত মুনাফার সঙ্গে কোম্পানিগুলো আরও বাড়তি অর্থ পায়। গণশুনানিতে উপস্থাপিত বিইআরসির কারিগরি কমিটির প্রতিবেদন মতে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে অযৌক্তিক বাড়তি অর্থ পাবে তিতাস, জালালাবাদ, বাখরাবাদ, কর্ণফুলী, সুন্দরবন ও পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস বিতরণ কোম্পানি যথাক্রমে ৭৬১.৬৮, ১১৪.৩৫, ৩৭.৪৪, ৮৬.৪৫, ২৯.৩২ এবং ৫.৯৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ অনিয়মের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণ মূল্য ১০৩৫.১৯ কোটি টাকা অযৌক্তিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে আবারও এসব কোম্পানি তাদের স্ব-স্ব বিতরণ মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। ফলে এসব প্রস্তাব অন্যায় ও অযৌক্তিক। তা ছাড়া কম গ্যাস দেওয়া ও দাম বেশি নেওয়া এবং অবৈধ সংযোগ ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্যাস চুরি ও আত্মসাৎ প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে শিল্প, বাণিজ্যিক ও আবাসিক গ্রাহকদের যথাক্রমে ইভিসি ও প্রিপেইড মিটার দেওয়ার ব্যাপারে বিইআরসির বাধ্যতামূলক আদেশ ছিল। বিইআরসি আইনের ৪৩ ধারা মতে বিইআরসির আদেশ প্রতিপালিত না হওয়ায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও বিতরণ কোম্পানি, পেট্রোবাংলা, জ্বালানি বিভাগ কেউই ইভিসি ও প্রিপেইড মিটার দেওয়ার ব্যাপারে বিইআরসির ওই আদেশ প্রতিপালনে গুরুত্ব দেয়নি। বিইআরসিও গুরুত্ব দেয়নি। অথচ সে আদেশ প্রতিপালিত না হওয়ায় বিতরণে সিস্টেম লস নয়, গেইন হয়। সে গেইন বিবেচনায় না নেওয়ায় ভোক্তা নয়, বিতরণ কোম্পানি লাভবান হয়। তা সত্ত্বেও বিইআরসির ১৬.১০.২০১৯ তারিখের আদেশে তিতাস ২ শতাংশ সিস্টেম লস সমন্বয় এবং পেইড-আপ ক্যাপিটালের ওপর ১৮ শতাংশ মুনাফা (অন্যদের ১২ শতাংশ) সুবিধা পায়। ফলে তিতাসের বিতরণ মূল্য বছরে কমপক্ষে ৩৫০ কোটি টাকা অযৌক্তিক বৃদ্ধি পায়। আইএমইডি-এর সূত্রে দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, অবৈধ সংযোগ ও নেটওয়ার্কের মধ্যমে তিতাসের গ্যাস ৬ শতাংশ চুরি হয়। এ চুরি রোধ করা হলে বিতরণ মূল্য বছরে প্রায় ৯০০ কোটি টাকা কমানো যায়। সার্বিক বিবেচনায় যৌক্তিক করা হলে তিতাসের বিতরণ ব্যয় কমানো যায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। তাই দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনের সূত্রে ক্যাব ১১ মার্চ, ২০১৯ তারিখে গ্যাসের দাম কমানোর লক্ষ্যে পক্ষজন প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত কমিটি দ্বারা পেট্রোবাংলা ও তিতাসের বিরুদ্ধে আনীত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য বিইআরসির কাছে প্রস্তাব দেয়।

কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে গ্যাসের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণে আইওসির গ্যাস ক্রয় মূল্যহার ধরা হয় যেখানে ২.৫৫ টাকা, সেখানে বাপেক্স-এর গ্যাস ক্রয় মূল্যহার ধরা হয় ৩.০৪ টাকা। সরকারনির্ধারিত মূল্যহার ০.৮৮ টাকা। ভোক্তার দেওয়া অর্থে গ্যাস উন্নয়ন তহবিল গঠিত হয়। এ তহবিলের অর্থে দেশীয় কোম্পানি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, গ্যাস সরবরাহে আইওসির গ্যাসের অনুপাত কমাবে এবং গ্যাস সরবরাহ ব্যয়ও কমাবে। কোনোটাই হয়নি। বরং অনুপাত ও ব্যয় উভয়ই বেড়েছে। ২০০৮ সালে তহবিল গঠনকালে আইওসির গ্যাসের অনুপাত ছিল ৪৮ শতাংশ। এখন ৬০ শতাংশ। দেশি কোম্পানির গ্যাসে গ্যাস সরবরাহ ব্যয় কমেনি, বরং নিজের গ্যাসের মূল্যহার আইওসির তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এত বড় অসংগতি গ্যাসের দাম নির্ধারণে বিইআরসি গ্রহণ করেছে। ১৯৯৩ সালের ২২৭ নম্বর এসআরও বলে আইওসি গ্যাসের ওপর এসডি-ভ্যাট রহিত হওয়া সত্ত্বেও ১৯৯৩ সাল থেকে ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ সাল অবধি ভোক্তাদের কাছ থেকে তা আদায় হয়। সেসব অর্থ ভোক্তারা গ্যাসের মূল্যহারে সমন্বয় চেয়েও পায়নি। সেসব অর্থসহ জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল ও গ্যাস উন্নয়ন তহবিলের অর্থের হিসাব গণশুনানিতে চেয়েও পাওয়া যায়নি। লাইসেন্সধারীগণ পরেও দেয়নি। বিইআরসিও সে হিসাব দিতে পারেনি। সবাই জবাদিহিতার ঊর্ধ্বে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিইআরসির ভূমিকা অকার্যকর।

দৈনিক গড়ে ৪৫০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ ধরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১৭ অক্টোবর থেকে গ্যাস সরবরাহ মূল্যহার ৮.৬৩ টাকা করা হয়। আগামী মে মাস থেকে দৈনিক গড়ে সর্বমোট ৬৫০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ ধরে বিইআরসির কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে গ্যাস মূল্যহার ১২.৮৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। অথচ ওই প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৩০ জুন অবধি গড়ে ৩২০ এমএমসিএফডি এলএনজি সরবরাহ হবে, উল্লেখ আছে। অর্থাৎ এলএনজির দাম নেওয়া হয় গড়ে ৪৫০ এমএমসিএফডির, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি হলে নেওয়া হবে গড়ে ৬৫০ এমএমসিএফডির। অথচ ভোক্তা এলএনজি পাবে গড়ে ৩২০ এমএমসিএফডি। সুতরাং এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধির অজুহাতে একই অর্থবছরে গ্যাসের মূল্যহার (ট্যারিফ) দুবার বৃদ্ধির কোনো আইনি সুযোগ নেই। উক্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, এলএনজি মিশ্রিত গ্যাসের মূল্যহার ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮.৬৩ টাকা নয়, ৮.৩৯ টাকা। ফলে রাজস্ব ঘাটতি ৪৪৫১.৩৬ কোটি টাকা থেকে হ্রাস পায় ৭৩১.৫৪ কোটি টাকা। সঞ্চালন ও বিতরণ মূল্যহার যৌক্তিক হলে ঘাটতি আরও ২৭৭৪.১৯ কোটি টাকা হ্রাস পায়। আবার ঘাটতি সমন্বয়ে সরকার ইতিমধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে। বিইআরসির কারিগরি কমিটির প্রস্তাব মতে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল হতে ১৪২০.৯০ কোটি টাকা সমন্বয় হলে ঘাটতি নয়, উদ্বৃত্ত থাকে ১৪৭৪.৭৩ কোটি টাকা। অতএব মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবসমূহ অন্যায় ও অযৌক্তিক।