১৯৮৪ সাল থেকে দেশে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। বর্তমানে দেশে এই মাদ্রাসার সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক রয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার। বেতন-ভাতার দাবিতে অনেক আন্দোলনের পর কিছু শিক্ষককে ভাতা দেওয়া হলেও বাকিরা কিছুই পাচ্ছেন না। সর্বশেষ ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষকরা। বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাশিক্ষক সমিতির সভাপতি মাওলানা হাফেজ কাজী ফয়জুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩৫ বছর ধরে আমরা ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা শিশুদের শিক্ষার আলো দিয়ে এলেও আজও আমাদের বেতন-ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘সারা দেশে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা প্রায় ১৫ হাজার। প্রতিটিতে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন করে। সব মিলিয়ে প্রায় ৭৫ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু মাত্র ১ হাজার ৫১৯টি মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ২ হাজার ৫০০ ও সহকারী শিক্ষকরা ২ হাজার ৩০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। সর্বশেষ গত বছর আন্দোলনের পর রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অথচ আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি।’
গত কয়েক দিন কয়েক হাজার শিক্ষক প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান করছেন। গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা। সেখানে বলা হয়েছে, অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের পর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণ ও শিক্ষকদের বেতন-ভাতা অনুমোদনের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা গত ২০১৮ সালে আপনি অনুমোদন করেন। অথচ সংশ্লিষ্টরা আজও তা বাস্তবায়ন করেনি।
শিক্ষকরা স্মারকলিপিতে ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলোÑ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নীতিমালা-২০১৮ সংশোধন করে সহজ শর্তে সরকারিকরণ করা, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্র্তৃক স্বীকৃতি নবায়নের সহজ আইন প্রণয়ন করা, আগের নিয়ম অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত সব শিক্ষককে বহাল রাখা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার স্থায়ী রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা করা, দুজন আলিম শিক্ষকের মধ্যে একজন এইচএসসি (সমমান) শিক্ষক অন্তর্ভুক্তিকরণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রতিটি মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক নিয়োগ প্রদান, মাদ্রাসার শিক্ষকদের পিটিআই ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, মাদ্রাসার আসবাবপত্রসহ ভবন নির্মাণ, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের কোডপ্রাপ্ত ৬ হাজার ৯৯৮ ও মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা মাদ্রাসাগুলোকে কোড দিয়ে সব মাদ্রাসাকে সরকারিকরণ।