উইকিলিকসের দাবি

অ্যাসাঞ্জকে বহিষ্কার করছে ইকুয়েডর

জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে ইকুয়েডর বহিষ্কার করছে। গত বৃহস্পতিবার উইকিলিকসের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এমন দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে সিএনএন। তবে উইকিলিকসের এমন দাবি নিয়ে মুখ খোলেননি ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশও অ্যাসাঞ্জের বহিঃসমর্পণ নিয়ে কিছু জানায়নি। উইকিলিকস দাবি করে, অ্যাসাঞ্জকে গ্রেপ্তার করতে ইকুয়েডরের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি চুক্তি হয়েছে। গতকাল শুক্রবারের টুইটে বলা হয়, ‘ইকুয়েডরের একজন শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তা উইকিলিকসকে বলেছেন, আইএনএ পেপারস অফশোর স্ক্যান্ডেলকে অজুহাত বানিয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে যে কোনো সময় দূতাবাস থেকে বের করে দেওয়া হবে।’

নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অ্যাসাঞ্জকে ধরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে একুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ঋণ মওকুফ চেয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মোরেনো গত মঙ্গলবার স্থানীয় একটি রেডিওতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, অ্যাসাঞ্জ লন্ডনে তাদের দূতাবাসে অবস্থানের সময় বারবার তাকে আশ্রয় দানের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। কোনো প্রমাণ সরবরাহ ছাড়াই তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পারিবারিক ছবি প্রকাশের জন্য অ্যাসাঞ্জকে দায়ী করেন মোরেনো।

তবে অ্যাসাঞ্জের আইনজীবীদের দাবি, এসব কেলেঙ্কারির ঘটনা ব্যবহার করে উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে চাইছেন মোরেনো।

মোরেনো বলেন, কারও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট হ্যাক বা ফোনে আড়ি পাতার অধিকার অ্যাসাঞ্জের নেই। অন্য দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অধিকারও নেই তার, বিশেষ করে ওই সব দেশের যাদের সঙ্গে একুয়েডরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ সাত বছর ধরে লন্ডনে একুয়েডরের দূতাবাসে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যাসাঞ্জ ২০১০ সালে পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক গোপন নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছিলেন।

এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আফগান যুদ্ধসম্পর্কিত ৭৬ হাজার এবং ইরাক যুদ্ধ সম্পর্কিত আরও ৪০ হাজার নথি ছিল। ফাঁস হওয়া ওই নথি যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও পেন্টাগনকে চরম বেকায়দায় ফেলে দেয়। সুইডেনে তার বিরুদ্ধে হওয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে ২০১২ সালে অ্যাসাঞ্জ লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি সেখানেই আছেন।