বিনা দোষে ১৫ দিন জেল খেটে মুক্তি পেল রেখা

যশোরে পুলিশের ভুলে মাদক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে গ্রেপ্তার হয়ে ১৫ দিন কারাভোগের পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছেন নিরপরাধ রেখা খাতুন। গত বৃহস্পতিবার যশোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (প্রথম) বিচারক নাজির আহমেদ তাকে মুক্তির আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ওই দিনই রেখাকে মুক্তি দিয়েছে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্র্তৃপক্ষ। এর আগে শিরিন বেগম নামে এক নারীকে মাদক মামলায় আদালত সাজা দেওয়ার পর তার পরিবর্তে গত ২০ মার্চ রেখাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় যশোর সদর থানা পুলিশ। তখন রেখার স্বজনরা দাবি করেছিলেন, শিরিন লেবানন প্রবাসী, আর রেখা নির্দোষ। কিন্তু পুলিশ দাবি করেছিল, প্রকৃত শিরিনকেই গ্রেপ্তার করেছে তারা, শিরিনই জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) নাম পরিবর্তন করে রেখা হয়েছেন। আদালত থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একটি মাদক মামলায় যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ইসমাইল কলোনি এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী শিরিন বেগমকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও চার মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন বিচারক। রায়ে এই মামলার আরেক আসামি শিরিনের স্বামী শহিদুল ইসলামকে খালাস দেওয়া হয়। শিরিন পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আর এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল করতে গিয়ে শিরিনের বদলে রেখাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।  

পরে গত ২৪ মার্চ রেখার পক্ষে আইনজীবী আবদুস সহিদ ভুল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবি করে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম) আদালতে একটি আবেদন করেন। বিচারক শুনানি শেষে বিষয়টি যশোরের পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম রব্বানী তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত রেখা খাতুনকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন।

আইনজীবী আবদুস সহিদ জানান, সাজাপ্রাপ্ত শিরিন বেগম যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া ইসমাইল কলোনি এলাকার শহিদুল ইসলামের স্ত্রী। আর রেখা খাতুন ঝিনাইদহ শহরের শহীদ মশিউর রহমান সড়কের বাসিন্দা লাল্টু শেখের মেয়ে ও যশোর শহরের ডালমিল এলাকার বাসিন্দা। রেখা শহিদুলের সাবেক দ্বিতীয় স্ত্রী।

আবদুস সহিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাজাপ্রাপ্ত আসামি শিরিন বেগম বিদেশে রয়েছে। তার পরিবর্তে রেখাকে আটক করে শিরিন দাবি করা হয়। পুলিশের এমন ভুলে নিরপরাধ রেখা কারাগারে ১৫ দিন সাজা খাটলেন। এখন এর মাশুল দেবে কে?’

রেখার সাবেক স্বামী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার প্রথম স্ত্রী শিরিন বর্তমানে লেবাননে থাকে। দ্বিতীয় স্ত্রী রেখার সাথে ২০১২ সালে ডিভোর্স হয়ে যায়। সে এখন ডালমিল এলাকায় আলাদা বাসায় ভাড়া থাকে। শিরিনের সাথে একই মামলায় আমিও আসামি ছিলাম। আমি খালাস পেলেও শিরিনের সাজা হয়। কিন্তু পুলিশ রেখাকে সাজাপ্রাপ্ত শিরিন হিসেবে আটক করে। তখন আমরা বারবার পুলিশকে এই কথা বললেও তারা কোনো কথা শোনেনি।’

রেখা খাতুনের মেয়ে সাহিদা আক্তার রানী বলেন, ‘মা সকালে হাঁটতে বের হলে রাস্তা থেকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। তখন পুলিশকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও আমরা সফল হয়নি। তাদের একগুঁয়েমির কারণে আমার মা বিনা দোষে ১৫ দিন জেল খাটল।’