এবার দেশজুড়ে প্রস্তুত সহস্রাধিক মাদক কারবারি

আসছে দ্বিতীয় আত্মসমর্পণ

কক্সবাজারসহ ১২টি জেলায় সহস্রাধিক মাদক কারবারি আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছে। পুলিশের বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি ও এসপির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি মাসেরই শেষ সপ্তাহে তাদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হতে পারে। এজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় পুলিশ হেফাজতেও এসেছে। আগামী মাসের পর আর কোনো মাদক কারবারিকে আত্মসমর্পণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) খন্দকার গোলাম ফারুক গত বৃহস্পতিবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেভাবেই হোক দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা হবে। আমাদের ডাকে যারা সাড়া দিচ্ছে তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। যারা করবে না তাদের জন্য অপেক্ষা করছে করুণ পরিণতি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে চট্টগ্রাম রেঞ্জের বেশ কয়েকটি জেলায় মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ করার কথা রয়েছে।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন ও বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামও দেশ রূপান্তরকে একই তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, তাদের রেঞ্জে অনেক কারবারি আত্মসমর্পণ করতে চায়। তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগও করেছে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসেই দিনক্ষণ ঠিক করে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান করা হবে। এরপরও যারা মাদক কারবার চালিয়ে যাবে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

এদিকে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারে প্রথম দফায় ১০২ জনের আত্মসমর্পণের দিনই থানায় করা মাদক মামলাটি প্রত্যাহার করতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে জেলা পুলিশ। আর অন্য অস্ত্র মামলাটি কীভাবে প্রত্যাহার হবে তা নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন।

কক্সবাজারের এসপি এ বি এম মাসুদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রথম দফায় আত্মসমর্পণের দিন থানায় হওয়া দুটি মামলা প্রত্যাহার করতে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকে (আইজিপি) গত ৩ মার্চ চিঠি পাঠানো হয়েছে। আত্মসমর্পণকারীদের সম্পদের হিসাব যাচাই-বাছাই করতে আইজিপি স্যারকে আরেকটি চিঠি পাঠিয়েছি। আত্মসমর্পণকারী ও তাদের স্বজনদের সম্পদের পরিমাণ বের করতে এরই মধ্যে সিআইডি, জেলা গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় দফায় মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ করার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। শিগগিরই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশ থেকে মাদক নির্মূল করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কক্সবাজারে ১০২ মাদক কারবারি স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার পর অন্য কারবারিরা উৎসাহ পাচ্ছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। বিভিন্ন জেলায় মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের সব ধরনের সহায়তা করব। যারা করবে না তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফে তালিকাভুক্ত ১০২ ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণের দিনই আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে       

 পাঠানো হয়। এই নিয়ে দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা হয়। কক্সবাজারের মতোই বিভিন্ন জেলার মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণ করতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। গত এক মাসে বেশ কয়েকটি জেলায় কিছু মাদক কারবারি আত্মসমর্পণ করেছে। যারা আত্মসমর্পণ করছে তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। কক্সবাজারেই দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা পুলিশ। পাশাপাশি আরও ১১টি জেলায় মাদক কারবারিরা আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিয়েছে। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে ওইসব জেলায় আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠান হবে বলে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ফেনী, বি-বাড়িয়া, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহীর দুটি জেলায় অন্তত সহস্রাধিক মাদক কারবারির আত্মসমর্পণ করার কথা। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী মাসের পর আর কোনো আত্মসমর্পণের অনুষ্ঠান হবে না। এরপর আমরা অলআউটে চলে যাব।’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত এসপি ইকবাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ করতে আমাদের সঙ্গে অনেক মাদক কারবারি যোগাযোগ করছে। তারা ভালো পথে ফিরলে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করার আশ^াস দেওয়া হয়েছে। আর যারা মাদক কারবার চালিয়ে যাবে তাদের বিরুদ্ধে থাকবে কঠোর অ্যাকশন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম দফায় ১০২ ইয়াবা কারবারি আত্মসমর্পণের পর অনেকেই নানাভাবে যোগাযোগ শুরু করে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠানটি করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়কে অবহিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে আমাদের হেফাজতে পাঁচজন চলে এসেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিদেশ থেকেও অনেক শীর্ষ কারবারি যোগাযোগ করছে। এবারের অনুষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ কারবারি থাকতে পারে। বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে টেকনাফ পাইলট হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠান হবে। অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপি উপস্থিত থাকতে পারেন।