পরীক্ষায় উত্তরপত্র সরবরাহ শিক্ষককে অব্যাহতি

চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় বরগুনা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক পুনিল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তরপত্র সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

বরগুনা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা শুরু হয়। এরপর একই কলেজের হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষক পুনিল চন্দ্র রায় ৪০৩ নম্বর কক্ষে দায়িত্ব পালন করলেও আধাঘণ্টা পর ৩০২ নম্বর কক্ষে এসে তার নিকটাত্মীয় দুই শিক্ষার্থীকে উত্তরপত্র সরবরাহ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করলে তাদের খাতা নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেন এ শিক্ষক। পরীক্ষা কক্ষের দায়িত্বে থাকা বরগুনা সরকারি কলেজের শিক্ষক অমর চন্দ্র দাস ও বরগুনা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক নেছার উদ্দিন প্রতিবাদ করলে তিনি শ্রেণিকক্ষ থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক অমর চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি অধ্যক্ষ সার দেখবেন। এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারব না।’ তবে বরগুনা আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক নেছার উদ্দিন বলেন, পুনিল স্যার এসে একটু ‘দেখিয়ে দেওয়ার’ চেষ্টা করেছিলেন। তবে উত্তরপত্র সরবরাহের ঘটনা তিনি ‘চোখে’ দেখেননি। এ বিষয়ে শিক্ষক পুনিল চন্দ্র রায়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পরীক্ষায় উত্তরপত্র সরবরাহ তো দূরের কথা আমি ওই কক্ষেই যাইনি। আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট।’

পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, কয়েকজন অভিভাবক ও সাংবাদিকদের কাছ থেকে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরীক্ষা কেন্দ্রে উত্তরপত্র সরবরাহের বিষয়টি শুনেছি। ওই শিক্ষক যাতে আগামী দিনে পরীক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে না পারে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। তবে সত্য কি মিথ্যা বলতে পারব না। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য উপাধ্যক্ষের নেতৃত্ব তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব থেকেও ওই শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’