গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, ইমারত নির্মাণের অনুমোদন ছাড়া যারা বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন, তাদের বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের একটি দল কাজ করবে। সেখানে তারা পরিদর্শন করে যদি দেখে বহুতল ভবনটির অবৈধ অংশটি ফিটনেসসহ সব ধরনের বিধিবিধান মেনে নির্মাণ করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্ট আইনের মাধ্যমে এর বৈধতা দেওয়া হবে। আর যদি ওই ভবনের সেই সক্ষমতা না থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা ভেঙে ফেলতে হবে। অনুমোদনহীন কোনো বহুতল ভবন থাকবে না। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল, সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম শামীম, অর্থ সম্পাদক রুহুল আমিন ও যুগ্ম সম্পাদক শাহাজাহন সাজু।
নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে এবার শুধু ভবন মালিক নয়, যারা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘কোনো ভবন হয়ে যাওয়ার পর বলবে ভবনটি অবৈধ সেটা হবে না। রাজউকের যে অফিসার ওই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবে, তাকে দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। যে ডেভেলপার কোম্পানি কাজ করবে, তাকেও দায়ভার গ্রহণ করতে হবে। তবে কোনোভাবেই অনুমোদনহীন ঊর্ধ্বমুখী ভবন থাকবে না। সেগুলোর বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা গ্রহণ করার আমরা করব।’
বনানীর এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এফ আর টাওয়ারের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করতে আমরা রাজউক থেকে ২৪টি টিম নামিয়েছি। প্রথমে বহুতল ভবনগুলো পরিদর্শন করবে। এরপর সকল ভবন পরিদর্শন করে দেখা হবে বিল্ডিং কোড অনুযায়ী সকল ব্যবস্থা আছে কি না। আমরা ভবনগুলো ক্লাসিফাই (শ্রেণিভুক্তকরণ) করতে চাই। যদি কোনো ভবনে শুধু অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে তাদের সময় বেঁধে দেব এই সময়ের মধ্যে বিল্ডিং কোডে যে ব্যবস্থা অনুমোদন করা হয়েছে, সেই ব্যবস্থা সংযুক্ত করতে হবে। ভবন মালিক সেটা করার পর আবার পরিদর্শন টিম যাবে, তারা সার্ভে করার পর ব্যবহারের অনুমতি দেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে কোনো ভবনে জরুরি নির্গমন পথ না থাকলে বা সেই পথ বন্ধ থাকলে অথবা গ্যারেজের জায়গা দখল করে স্থাপনা করলে তাদেরও নির্দিষ্ট সময়সীমা দেব। এরপর তারা যদি সে সব ব্যবস্থা সংযুক্ত না করেন, তাহলে ভবনটি সরিয়ে নিতে বলব। তা না নিলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সিভিল এভিয়েশনের কাগজ জালিয়াতি করে একটি বহুতল ভবন করা হয়েছে ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সেই ভবনটি সিভিল এভিয়েশনের কাগজ জালিয়াতি করে গড়ে তোলা হয়েছে। আমরা দৃষ্টান্ত রাখতে চাই, কেউ আইনের বাইরে না। আশা করি আগামী সপ্তাহে সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।’
হাতিরঝিলে বিজিএমই ভবন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আদালত সময় বৃদ্ধি না করলে আমাদের প্রস্তুতি আছে। আমরা ভবনে যারা ছিলেন তাদের সুনির্দিষ্ট সময় দেব। ওই ভবন ভাঙার মতো কারিগরি প্রস্তুতি আমাদের আছে।’
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ছয় তলার বেশি হলেই বহুতল। আর রাজউকের মতে, ১০ তলা। সরকারি দুই সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘যার যে দায়িত্ব সেটাই পালন করা উচিত। ফায়ার সার্ভিসের কাজ বহুতল ভবন চিহ্নিত করা না। তাদের কাজ অগ্নিকাণ্ড ঘটলে তা মোকাবিলা করা।’