দুই মাদ্রাসাছাত্রীকে আটকে রেখে ‘দল বেঁধে ধর্ষণ’

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার একটি মাদ্রাসার পঞ্চম ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে দু’দিন একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছে এক ছাত্রীর পরিবার। ওই ছাত্রীকে শনিবার মাদারীপুর সদর হাসপাতালে মেডিকেল চেকআপ করানো হয়। পুলিশ সুপার সুব্রত কুমার হালদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।’

ওই দুই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, প্রভাবশালী হওয়ায় টাকার বিনিময়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ধর্ষণকারীরা। 

স্থানীয়রা জানায়, বতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ওই দুই ছাত্রীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন, মন্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় ও তার বন্ধুরা একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করেছে। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের উদ্ধার করে। এ সময় শাকিব ও তার বন্ধুরা পালিয়ে যায়।

ওই ছাত্রীর মা বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই। আমার মেয়ে ও আরেক মেয়ে বুধবার সকালে মাদ্রাসায় যায়। এরপরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। পরে বৃহস্পতিবার রাতে শুনি স্থানীয়রা আমার মেয়েসহ আরেক মেয়েকে এক ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করেছে। এখানের মাতব্বররা সালিশ মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে আমাদের মামলা করতে দেয়নি। বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্যও হুমকি দিয়েছে এবং মেয়েকে কয়েক দিন লুকিয়ে রাখতে বলেছে। তাই মেয়েকে ওর মামা বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি। আমি আমার মেয়ের ওপর শারীরিক নির্বাতনের বিচার চাই।’

স্থানীয় সেলিম মেম্বার বলেন, ‘আমরা ঘটনাটি টের পেয়ে দুই কিশোরীকে উদ্ধার করি। এসময় ওই ফ্ল্যাট থেকে ৭/৮ জন পালিয়ে যায়।’