ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৃত ব্যক্তির বাড়িতে হত্যা মামলার আসামি ধরতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জে ১০-১২ জন আহত হয়। প্রতিবাদে ঝাড়–মিছিলসহ সড়ক অবরোধ করেছে নারীরা। গতকাল রবিবার বিকেলে জেলা শহরের পৌর এলাকার দক্ষিণ পৈরতলায় এই ঘটনা ঘটে।
পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওমর ফারুক জীবন জানান, গত শনিবার রাতে মারা যান স্থানীয় ছালেক মিয়ার বৃদ্ধা মা। পরদিন গতকাল রবিবার দুপুরের পর বাড়ির সব পুরুষ ও স্থানীয়রা জানাজা পড়ে মরদেহ দাফন করতে যায়। এ সময় নবীনগর থানার এসআই রুবেল ফরাজী কনস্টেবলদের নিয়ে ওই বাড়িতে ঢুকে নবীনগর থানার কুড়িঘর গ্রামের একটি হত্যা মামলার আসামি ইরনের খোঁজ করে। বাড়িতে থাকা নারীরা এখানে কোনো আসামি নেই জানালেও এসআই রুবেল জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে মালামাল তছনছ করে। পাশের বাড়িতে গিয়েও একই কাজ করে তারা। এ সময় বাড়ির নারীরা এই কর্মকা-ের প্রতিবাদ করলে পুলিশ সদস্যরা শটগানের ফাঁকা গুলি করে ও নারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে কয়েক নারী আহত হয়। বাড়ির নারীরা সম্মিলিতভাবে ধাওয়া করলে পুলিশ ও নারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় পুলিশের দলটি। এ সময় এলাকাবাসী তাদের ঘেরাও করে রাখে। পরে সদর থানার ওসি সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধ পুলিশদের উদ্ধার করেন।
এদিকে নারীরা দোষী পুলিশ সদস্যদের শাস্তির দাবিতে পৈরতলা-গোকর্ণঘাট সড়কে ঝাড়–মিছিল, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে। তারা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে রাখে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি সেলিম উদ্দিন গুলি ছোড়া ব্যতীত অন্যান্য ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।