মিহি সুতার কাপড় বুনতে ডেমরায় হচ্ছে পাটকল

দেশে-বিদেশে পাটে তৈরি নানা পণ্যের চাহিদা থাকলেও সে অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। পাট থেকে পর্যাপ্ত পণ্য উৎপাদন করা হলে দেশে পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহার বাড়ানো যাবে, অন্যদিকে রপ্তানিতে আসবে বৈচিত্র্য। বাড়বে রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজধানীর ডেমরায় ‘বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন ফ্যাক্টরি’ স্থাপন করছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১৮৩ কোটি টাকা। আগামীকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, গৃহস্থালি ও দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারে উপযোগী অনেক পণ্য পাট দিয়ে তৈরি করা যায়। এসব পণ্য রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এ ছাড়া নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতেও এর বড় ভূমিকা থাকবে। এ জন্য ডেমরায় কারখানা স্থাপনে প্রকল্প হাতে নিতে চায় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি আগামী একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। কারখানাটিতে পাটে তৈরি মসৃণ কাপড় দিয়ে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি পাটপণ্য প্রস্তুতকারীরা প্রকল্পে উৎপাদিত কাপড় দিয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারে উপযোগী বিভিন্ন নকশার পাটপণ্য তৈরি করতে পারবে। এসব পণ্য দেশের বাজারে বিক্রির পাশাপাশি রপ্তানি করা যাবে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় বছরে ১ হাজার ৮৯০ টন পাটের মিহি সুতা ও ১ হাজার ৮৫০ টন পাটের মসৃণ কাপড়সহ বছরে বিভিন্ন আকার ও নকশার ১ লাখ পিস পাটের ব্যাগ ও অন্যান্য বহুমুখী পণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য জুয়েনা আজিজ বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ডেমরায় বিজেএমসির করিম জুট মিলের অব্যবহৃত জায়গায় বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন কারখানা স্থাপন। এখানে পরিবেশবান্ধব বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। পাট খাতে কর্মরত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারাও উপকৃত হবেন। এ খাতের প্রসার হলে এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচনসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প প্রস্তাব পাওয়ার পর ২০১৮ সালের ১ মার্চ প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কিছু শর্ত সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।