ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় পাঁচ দিন ধরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। গতকাল রবিবার সকালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা কাতরাচ্ছেন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে। রোগীদের স্বজনরা কান্নাকাটি করলেও মন গলছে না চিকিৎসকদের।
এদিন সকালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান সড়কের পান বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিক্ষুব্ধরা যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকেও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ, জরুরি ও সব ওয়ার্ডের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। কোথাও চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীকে কাজ করতে দেখা যায়নি। বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেডে শুয়ে কাঁতরাচ্ছেন কিছু রোগী। স্বজনরা বসে আছেন চিকিৎসকদের অপেক্ষায়। কেউ কাঁদছেন, কর্মকর্তাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন।
অন্যান্য দিনের মতো রবিবারও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে অনেক রোগী। চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা ফিরে যায়। এদিন হাসপাতালের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অফিস করতে দেখা যায়। কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে দেখা গেলেও তারা কর্মবিরতিতে রয়েছেন। হাসপাতালে ধর্মঘটের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ গত শনিবার রাতে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। গত ৪ এপ্রিল ভুল চিকিৎসায় শহরের সমিতিপাড়ার
আনোয়ার হোসেন নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তার স্বজনরা দুজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধর করে। নার্স ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিতের অভিযোগও রয়েছে। এই ঘটনার জের ধরে সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা।এ বিষয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ কক্সবাজারের সভাপতি হাসিবুল নাসিম সোহান বলেন, ‘একজন রোগী মারা গেছে। আমরা তাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তারপরও স্বজন নামধারী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর দফায় দফায় হামলা করেছে। হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই। যতদিন পর্যন্ত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা না হবে ততদিন কর্মবিরতি চলবে। প্রয়োজনে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।’
জানতে চাইলে কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, ‘হাসপাতালের চলমান ধর্মঘট নিয়ে আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কোনো কথা বলি না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ রয়েছে, সাংবাদিকদের সঙ্গে ফোনে কথা না বলতে। যদি কথা বলতে হয় সামনাসামনি আসতে হবে।’ কোথায় আসব? জিজ্ঞাসা করলে তিনি ফোন কেটে দেন। তবে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিধান পাল দাবি করেছেন, জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।