“দূর থেকে ভবনটি দেখতেই নড়বড়ে। এটি যখন নির্মাণ করা হয়েছিল আমার মনে হয় তখন নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিম্নমানের কাজ হয়েছিল বলেই ভবনটি ধসে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।”
সোমবার দুপুরে বরগুনার তালতলি উপজেলার ছোটবগি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ধসে শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে স্থানীয় ও সাংবাদিকদের সাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. সাবের হোসেন এ মন্তব্য করেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, আমাদের সরকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিশুদের প্রতি তিনি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। এটা আমাদের জন্য ব্যথার বিষয় এখানে একটি শিশু বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে নিহত হয়েছে এটা অত্যন্ত মর্মান্তিক।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি ও ১১ টায় বরগুনা জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক(প্রশাসন) ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. সাবের হোসেন। এসময় তার সাথে ছিলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব(বিদ্যালয়-০১) মো. মাহবুবুর রশিদ।
এছাড়াও জেলা প্রশাসনের ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্ব দেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মাহবুব আলম।
এ সময় তার সাথে ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এএসম কবীর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এম মিজানুর রহমান, তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপায়ন দাস শুভ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত হুমায়ুন কবীর।
এ সময় তারা ভবনের ছাদ ধসে যে কক্ষে শিক্ষার্থী নিহত হয়েছিল সেই কক্ষসহ সম্পূর্ণ বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এসময় তদন্তকারী টিমের সদস্যরা বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, শনিবার বেলা বারোটার দিকে তালতলী উপজেলার ছোটবগী পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গ্রেড ভীম ধসে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মানসুরা বেগম মারা গেছেন। এ সময় আহত হয়েছে আরো ৫ জন। এ ঘটনায় আমতলী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলাও দায়ের করা হয়েছে।