বঙ্গবন্ধুতে পানি নিষ্কাশনে এখনো সনাতনী পদ্ধতি

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই দেশে শুরু হয়ে গেছে ঝড়-বৃষ্টি। ঢাকায় নিয়মিতই আঘাত হানছে বৃষ্টি। একটু বৃষ্টিতেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠে জমে যাচ্ছে পানি। আর সেই পানি নিষ্কাশনে নেই কোনো আধুনিক ব্যবস্থা। সনাতনী সেচ পদ্ধতিতে চলছে পানি সরানোর কাজ। অথচ দেশের একমাত্র স্বীকৃত ফুটবল ভেন্যু বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।

গতকাল যেমন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ঢাকা আবাহনী ও চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলা বন্ধ রইল প্রায় ৪০ মিনিট। ১০ মিনিটের বৃষ্টিতে মাঠে জমে গেছে পানি। সেটা সরাতে উদ্যোগী হতে দেখা গেছে দুজন মাঠকর্মী এবং কয়েকজন বলবয়কে। আধঘণ্টার চেষ্টায় মাঠের দুপাশে জমে থাকা দৃশ্যমান পানির কিছুটা সরাতে পারল তারা। এরপর ম্যাচ শুরুর পর দু’দল আর স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি। মাঠে জমে থাকা অদৃশ্য পানি বাদ সেধেছে বাকিটা সময়।

স্বয়ংক্রিয় নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এ মাঠে বর্ষা মৌসুমে খেলা পরিচালনা কঠিন। একটি জাতীয় স্টেডিয়াম। অথচ পানি সরাতে নেই কোনো আধুনিক ব্যবস্থা। গত মৌসুমে শুধু বৃষ্টির কারণে একাধিক ম্যাচ বাতিলের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বিলম্বিত হয়েছে মৌসুম। এ নিয়ে অবশ্য হেলদোল নেই ভেন্যুর মালিক জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এবং প্রধান ব্যবহারকারী বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সেটা খুব একটা থাকার কথাও নয়। কারণ এই ভেন্যুটি ব্যবহার করে থাকে বাফুফে এবং বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। এই মাঠ দেখভালের দায়িত্ব এখন এই দুটি সংস্থার। মাঠের চার পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন থাকলেও মাঠটি অত্যধিক ব্যবহারের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে দেবে গেছে ৬ ইঞ্চিরও বেশি। ফলে পানি সহজে ড্রেন পর্যন্ত গড়াচ্ছে না। বৃষ্টির পর মাঠ থেকে যাচ্ছে ভেজা, কর্দমাক্ত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বাফুফের গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বাবুল নিজেকে ঢাল তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘২০০৮ সাল থেকেই অনেক অনেক চাহিদাপত্র দিয়েছি বাফুফেকে। কিন্তু মাঠ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটি দেবে গেছে। মাঝখানে প্রায় আট মাস খেলা ছিল না। সেই সময়টায় চাইলে মাটি ফেলে উঁচু করা যেত। কিন্তু সেটা বাফুফেকে বারবার জানানোর পরও কোনো লাভ হয়নি। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো মেশিন কিংবা পদ্ধতি আমাদের হাতে নেই। অথচ বৃষ্টির কারণে প্রায়ই খেলা বাতিল করতে হয়। বাফুফের কাছে যখনই এসব বিষয় বলতে যাই, তারা বলে টাকা নেই। ফুটবলে মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এ দেশে মাঠ থাকে সবচেয়ে অবহেলিত।’

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মাঠের এই দুর্দশার কারণে দুষলেন বাফুফে কর্তাদের অবহেলাকে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের প্রশাসক মোবারক হোসেন লিটন বলেন, ‘এই মৌসুম শুরুর আগে অনেক সময় ছিল। কিন্তু বাফুফে কিংবা গ্রাউন্ডস কমিটির পক্ষ থেকে কখনই মাঠ সংস্কারের বিষয়ে আমাদের কিছু বলেনি। এমনকি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক মেশিনও কখনো চাওয়া হয়নি।’

শুধু পানি নিষ্কাশন নয়, মাঠ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বাফুফের গ্রাউন্ডস কমিটির কাছে নেই প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। মাঠে রোলিং করতে বাফুফের ভাড়া নিতে হয় সিটি করপোরেশনের হেভি রোলার। ঘাস কাটার যন্ত্র যেগুলো আছে সেগুলোও অকেজো হওয়ার পথে। বাবুল জানান, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একটি রোলার ছিল। সেটিই আমরা ব্যবহার করতাম। সেটা নষ্ট হওয়ার পর বাফুফেকে বলেছিলাম নিজেদের উদ্যোগে ঠিক করতে। কিন্তু সেটা তারা করেনি। পরে বিসিবি রোলারটা নিয়ে ঠিক করে এখন মিরপুরে ব্যবহার করছে। ঘাস কাটার মেশিনও পর্যাপ্ত নেই। তাছাড়া মাঠকর্মী আছে মাত্র তিনজন। এদের আবার এই ভেন্যু ছাড়াও দেশের অন্য ভেন্যুগুলোও দেখভাল করতে পাঠাতে হয় নিয়মিত। এভাবে আসলে ফুটবল চলে না।’

এই ভেন্যুতে আগামী ১৭ এপ্রিল এএফসি কাপের ম্যাচে স্বাগতিক আবাহনী মুখোমুখি ভারতের আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন মিনার্ভা পাঞ্জাবের। আর ২২ এপ্রিল থেকে শুরু হবে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ আন্তর্জাতিক মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্ট। বৃষ্টি যেভাবে হানা দিচ্ছে তাতে এই ম্যাচগুলো কতটা মসৃণভাবে শেষ হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেই যায়। বাফুফে এবং ক্রীড়া পরিষদ অবশ্য তাকিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দিকে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম ব্যাপক সংস্কারের প্রকল্পটি এখনো অনুমোদন পায়নি। যে প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংস্কারসহ মাঠ সংস্কারের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে।