মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে বাস দুর্ঘটনায় পাঁচ বাংলাদেশি শ্রমিকসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত রবিবার রাত ১১টার দিকে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩২ জন। আহতদের মধ্যে সাত বাংলাদেশি রয়েছেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস জানায়, কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে সেপাংয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বাসটি নিলাইয়ের বিভিন্ন হোস্টেল থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নিয়ে এমএএস কার্গো কমপ্লেক্সে যাচ্ছিল। পথে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে পাশে ড্রেনে গিয়ে পড়ে বাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ নয়জন নিহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর গতকাল সোমবার বিকাল পর্যন্ত মারা যান আরো তিনজন। হতাহতরা মালয়েশিয়া, নেপাল, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে চার ইন্দোনেশীয় নারী, দুই নেপালি পুরুষ, পাঁচ বাংলাদেশি পুরুষ ও এক মালয়েশীয় (বাসচালক) রয়েছেন। তারা হতাহতদের তালিকাও প্রকাশ করেছে। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন— মো. রাজীব মুন্সী (২৬), মো. সোহেল (২৪), মহিন (৩৭), আল-আমিন (২৫) ও গোলাম মোস্তফা (২২)। তাদের মরদেহ সেরদাং হাসপাতালে রয়েছে।
আহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে সেরদাং হাসপাতালে মো. নাজমুল হক (২১), মো. রজবুল ইসলাম (৪৩), ইমরান হোসেন (২১) এবং পুত্রজায়া হাসপাতালে জাহিদ হাসান (২১), শামীম আলী (৩২), মোহাম্মদ ইউনূস (২৭) ও মো. রাকিব (২৪) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাইকমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, হতাহতদের রাখা হাসপাতালগুলোতে দূতাবাসের লোক পাঠানো হয়েছে। হতাহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য জানতে একটু সময় লাগবে।
মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বাসটিতে মোট ৪৪ আরোহী ছিল। আহতদের মধ্যে ১০ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। ১৪ জন কিছুটা আশঙ্কামুক্ত ও আটজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। স্বাস্থ্য বিভাগের মহপরিচালক দাতুক ডা. নুর হিশাম আব্দুল্লাহ বলেন, হতাহতদের সেরদাং, পুত্রজায়া, বেনতিং ও কাজাং হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মাতিয়ারা কায়ামাস নামক প্রতিষ্ঠানটির মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা নূর নাদিয়া ওয়াহাব বলেন, হতাহতরা তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মী। এদের প্রত্যেকেরই বৈধ ভিসা রয়েছে। তারা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এমএএস কার্গো কমপ্লেক্সে রাতের ডিউটিতে যাচ্ছিলেন।