বিজেপির ইশতেহার

অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের অঙ্গীকার

ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সোমবার নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচনে জিতলে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণে সম্ভাব্য সকল উপায় প্রয়োগ করা হবে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে।

নয়াদিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ছাড়াও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দলটির নির্বাচনী ইশতেহারের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সংকল্পপত্র’। ৪৫ পাতার ইশতেহারে ‘নতুন ভারত’ গড়তে ৭৫টি অঙ্গীকার করেছে বিজেপি। দলের প্রচার থিম ও ট্যাগলাইন প্রকাশ করেছেন অরুণ জেটলি। ইশতেহারের থিম এবার ‘সংকল্পিত ভারত-সশক্ত ভারত’ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভারত, মজবুত ভারত। আর বিজেপির এবারের স্লোগান, ‘ফির একবার, মোদি সরকার’। ইশতেহার অনুষ্ঠানে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, ‘অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণে সম্ভাব্য ও সহায়ক সকল উপায় প্রয়োগ করা হবে।’ গত ২৩ বছর ধরে বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশিতেহারে রামমন্দির নির্মাণ ইস্যুটি অঙ্গীকার হিসেবে রেখেছে।

ভারতীয় মিডিয়া আনন্দবাজার বলছে, বিজেপির এবারের ইশতেহারের মূলমন্ত্র হলো জাতীয়তাবাদ, হিন্দুত্ববাদ এবং উন্নয়ন। জাতীয়তাবাদ ও হিন্দুত্ববাদ প্রশ্নে এবারও বিজেপি অযোধ্যায় রামমন্দির প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে দেশটির হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভোট টানতে চাইছে। ইশতেহার প্রকাশের পর মোদি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদ আমাদের অনুপ্রেরণা, সমাজের দুর্বল অংশের ক্ষমতায়ন আমাদের লক্ষ্য এবং সুশাসন আমাদের মন্ত্র।’

এদিকে বিজেপির ইশতেহার প্রকাশের পর বিরোধী দল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। প্রতিক্রিয়ায় দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘ভারতবাসীর মনে আছে বিজেপির সাবেক প্রতিশ্রুতিগুলোর কথা। প্রত্যেক নাগরিককে ১৫ লাখ রুপি করে দেওয়ার কথা ছিল তাদের। দুই কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা ছিল। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখতে পারেনি বিজেপি। দেশের জনগণ বিজেপিকে ক্ষমা করবে না।’

আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘মোদি-অমিত শাহের সাহস নেই নিজেদের কৃতকর্ম নিয়ে কথা বলার। কৃষকদের তারা যে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে তা নিয়ে কোনো বক্তব্য নেই ইশতেহারে।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যনার্জি প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদিকে শুধু প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে না রাজনীতি থেকেও উচিত ছুড়ে ফেলে দেওয়া। এবারের নির্বাচনে মানুষ তার ঠোঁটে টেপ লাগিয়ে দেবে, যাতে তিনি আর মিথ্যে না বলতে পারেন।’

বিজেপির ইশতেহারের উল্লেখযোগ্য অংশ জাতীয়তাবাদে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বিজেপি। জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে বিজেপি কোনো সমঝোতা করবে না। সামরিক শক্তি বাড়াতে উন্নতমানের সমরাস্ত্র যুক্ত করা হবে। সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স বজায় থাকবে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকত্ব সংশোধন বিল পাস করবে বিজেপিশাসিত সরকার। তবে বিভিন্ন রাজ্যের সংস্কৃতি ও অস্তিত্বে আঁচ পড়তে দেবে না। রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করা হবে। ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করা হবে। কিষান সমৃদ্ধি নিধি প্রকল্পে প্রত্যেক কৃষককে বছরে ৬,০০০ টাকা সাহায্য দেওয়া হবে। কিষান ক্রেডিট কার্ডে নেওয়া ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে এক বছর থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুদ শূন্য শতাংশ। গ্রামীণ এলাকার উন্নয়নে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা খরচ করবে বিজেপিশাসিত সরকার। ৬০ বছর হলে পেনশন পাবেন ছোট ও প্রান্তিক চাষিরা। ৬০ বছর হলে পেনশন পাবেন ছোট দোকানদাররা। অবকাঠামো খাতে ২০২৪ সালের মধ্যে ১০০ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বিজেপি।