অনুপ্রবেশকালে মালয়েশিয়ার পের্লিস রাজ্যের সমুদ্র সৈকত থেকে ৪১ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার তাদের উদ্ধারের পর অভিবাসন
কর্র্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। ওই রোহিঙ্গারা মিয়ানমার না বাংলাদেশের আশ্রয় শিবির থেকে গেছে তা জানাতে পারেনি মালয়েশিয়ার প্রশাসন।
দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, গত মাসে এই সুংগাই বেলাতি সৈকত থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে ৩৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক বাহিনী ও উগ্রপন্থি বৌদ্ধদের নির্যাতনের শিকার হয়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে বড় অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে পাড়ি জমিয়েছেন অনেকে।
স্থানীয় পুলিশের প্রধান নূর মুশার মোহাম্মদ এএফপিকে বলেন, ‘নৌযানে করে সমুদ্রপথে আসা সর্বশেষ দলটিতে শুধু পুরুষ রোহিঙ্গারাই রয়েছেন। সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারীরা স্থানীয় পাচারকারীদের মাধ্যমে এদের নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নৌপথে দ্রুত অভিযান না চালালে আরও রোহিঙ্গা এখানে আসতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, সৈকতে আসার আগে তারা বড় নৌযানে চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছে। এরপর মানব পাচারকারীরা তাদের ছোট নৌকায় করে বিভিন্ন উপকূলে নিয়ে যায়। নৌকাগুলো কোথা থেকে এসেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়াদের সবাই শারীরিকভাবে সুস্থ। তাদের আটক করে অভিবাসন কর্র্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনযজ্ঞ শুরু হলে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এদের ফিরিয়ে নিতে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়ন শুরু করেনি মিয়ানমার। নির্যাতনের মুখে কয়েক গত কয়েক বছর ধরেই অনেক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। শুধু আশ্রয়ই নয়, অনেকে সেখানে কম বেতনে কাজও করে থাকে। মূলত কাজের উদ্দেশেই বেশিরভাগ রোহিঙ্গা দেশটিতে অবৈধপথে পাড়ি জমায়।