মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ বাংলাদেশির দুজনই চাঁদপুরের। এই জেলার মো. সোহেল (২৪) ও আল আমিনের (২৫) মৃত্যুর খবরে দুজনের বাড়িতে চলছে মাতম। গত রবিবার রাতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
নিহত সোহেলের বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামে, আর আল আমিনের বাড়ি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের চরভাগল গ্রামে। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
দেবীপুরের সোহেল পরিবারের একমাত্র ছেলেসন্তান। তার চার বোন রয়েছে। দুই বছর আগে বিয়ে করেন শাহরাস্তি উপজেলার আমেনা বেগমকে। এই দম্পতির তাসনিম নামে সাত মাস বয়সী এক মেয়ে রয়েছে। সোহেলের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার ছেলেকে সাত মাস আগে স্থানীয় ব্র্যাক এনজিও ও আত্মীয়দের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ঋণ করে মালয়েশিয়া পাঠিয়েছিলাম। গতকাল মধ্যরাতে জানতে পারি একমাত্র ছেলে দুর্ঘটনায় মারা গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব আল্লাহই জানে।’
নিহতের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আমার মানিকের লাশটা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে আনার ব্যবস্থা করা হয়। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, আমাদের পরিবারের ঋণ শোধে যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
এদিকে ফরিদগঞ্জের আল আমিন ছিলেন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার বড়। সাত মাস আগে পাশের বাড়ির মিলন গাজীর ছেলে রাসেলের সঙ্গে তিনিও জীবিকার সন্ধানে মালয়েশিয়া যান। নিহতের বাবা মাওলানা আমির হোসেন বলেন, ‘বিভিন্নজনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার করে ছেলেকে বিদেশ পাঠাই। এর মধ্যে বেশ কিছু টাকাও পাঠিয়েছে আমাদের। কীভাবে এই ঋণ শোধ করব জানি না।’
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের কাছের একটি সড়কে বাংলাদেশিসহ আরও কয়েকটি দেশের শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে পাঁচ বাংলাদেশিসহ কমপক্ষে ১২ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে সাত বাংলাদেশিসহ ৩২ জন।