বগুড়ার শেরপুরে টহল পুলিশের ওপর চরমপন্থীদের হামলায় পুলিশের এক কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নান্নু মিয়া (৪২) নামে পুলিশের ওই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বাজার এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাটি ঘটে।
শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, ভবানীপুর বাজার এলাকায় পুলিশের নিয়মিত রাত্রিকালীন টহল দল ছিল। নান্নু মিয়াসহ পুলিশের দুই কনস্টেবল ভাড়ায়চালিত সিএনজিঅটোরিকশায় করে ওই এলাকায় টহলে যান। তাদের গাড়িটি যখন ভবানীপুর মন্দির সড়ক দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিল তখন চরমপন্থীরা বাজারে বিভিন্ন পোস্টারিং করে ফিরছিলেন।
এ সময় নান্নু মিয়া তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা পুলিশের ওপর গুলি ছোড়ে। এতে একটি গুলি নান্নুর ডান হাঁটুতে বিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরিদর্শক বুলবুল ইসলাম জানান, চরমপন্থীদের সাঁটানো ওসব পোস্টারে লেখা ছিল, ‘পাবনায় কয়েকটি বিপ্লবী সংগঠনের নামে রাষ্ট্রীয় চক্রান্তে ৬১৪জন সদস্যের নাটকীয় আত্মসমর্পণকে প্রত্যাখ্যান করুন— মার্কসবাদ, লেনিনবাদ জিন্দাবাদ।’
তিনি জানান, চরমপন্থীদের ৬১৪ জন সদস্য মঙ্গলবার পাবনায় আত্মসমর্পণের কথা। সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরই বিরোধিতা করে ভবানীপুর বাজারে পোস্টার সাঁটানো হচ্ছিলো।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, চরমপন্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশ পাল্টা তিন রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল। তবে এসব গুলি চরমপন্থীদের কারও গায়ে লেগেছে কিনা তা জানা যায়নি। তিনি জানান, সিএনজি চালক ও অপর দুই পুলিশ সদস্য অক্ষত আছেন।
ভবানীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, তিনি বাজারের নৈশপ্রহরীদের সূত্রে জানতে পেরেছেন, চরমপন্থীদের ওই দলে ২০-২৫ জন সদস্য ছিল। তারা সবাই সশস্ত্র ছিলেন। পুলিশের ওপর হামলা শেষে চরমপন্থীরা পাকা সড়ক দিয়ে হেঁটে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মধ্যে ঢুকে পড়ে।
এর আগে তারা ওই বাজারে শাহাবুদ্দিনের বাড়ির পাশে অবস্থান নিয়েছিল।
শাহাবুদ্দীনের ছেলে সবুজ মিয়া জানান, চরমপন্থীদের ধারণা তার বাবা পুলিশকে খবর দিয়েছে যে বাজারে তারা পোস্টার লাগাচ্ছে। এ কারণে তাদের বাড়ি ঘেরাও করে চরমপন্থীরা। সেসময় পুলিশ গেলে গোলাগুলি হয়। চরমপন্থীরা অন্তত ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবীর জানান, আহত নান্নু মিয়াকে প্রথমে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নেয়া হলেও রাত ৩টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা নেওয়া হয়েছে।